সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেছেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সরকার দেশের প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন গ্রামাঞ্চলেও উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা হয়েছে।
সোমবার সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার জনতা মহাবিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে (প্রায় ৬০ লাখ) নির্মিত একাডেমিক ভবনের ৩য় তলার উদ্বোধন ও সরকারি অর্থায়নে (৪ কোটি টাকা) নির্মিতব্য ৪ তলাবিশিষ্ট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, স্বাধীনতার পর সুনামগঞ্জ মহকুমা সদরের বাইরে মফস্বলের গ্রাম গোবিন্দগঞ্জ ও থানা সদর ছাতকে ২টি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ২১ বছর আমরা উপেক্ষিত ছিলাম। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সর্বক্ষেত্রে আমাদেরকে উপেক্ষিত করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এখন আমরা অনেক কাজ করতে সক্ষম হয়েছি। মঈনপুর এলাকাবাসীর দাবি ছিলো কলেজকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া, দ্বিতীয় দাবি ছিলো একটি হাসপাতালের, তৃতীয় দাবি ছিলো একটি ব্রিজের। আমরা এই দাবিগুলো পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে আমার হাত ধরেই সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যাত্রা শুরু হয়েছিলো। ইতোমধ্যে ছাতকের সব গ্রামকে বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ অঞ্চলে মঈনপুর একটি আলোকিত এলাকা। জনতা মহাবিদ্যালয় থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে অনেকেই দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এই অঞ্চলের শিক্ষানুরাগীদের মহানুভবতা ও উদ্যোগের কারণেই এখন একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজে রূপ নিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
মানিক বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হচ্ছে ৬ লেনের। আমরা সৌভাগ্যবান, আমাদের ছাতকের রাস্তার কিছু অংশ এবং দুটি ব্রিজ ৪ লেনের আদলে হয়েছে। যেটি সুনামগঞ্জ জেলায় আর কোথাও হয়নি। সিলেট বিভাগের একমাত্র পঙ্গু হাসপাতাল সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে কৈতকে নির্মিত হচ্ছে। হাসপাতালের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জুন মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, ভটেরখালের উপরে আমরা অনেকগুলো ব্রিজ করেছি। বিনন্দপুর ও রাউলিতে ভটেরখালের উপরে আরো দুটি ব্রিজ স্থাপন করা হবে।
প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক রুহুল করিম শিবলুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট’র চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রমা বিজয় সরকার, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চল’র পরিচালক প্রফেসর আবদুল মান্নান খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট’র সচিব প্রফেসর কবির আহমেদ, ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ’র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. পারভেজ ইষেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হেলাল আহমেদ চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির দাতা সদস্য, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালক মুহিতুল বারী রহমান, বিদ্যোৎসাহী সদস্য, সাবেক চেয়ারম্যান শায়েস্তা মিয়া, ছাতক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পুলিন চন্দ্র রায়, ছাতক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপি বেগম, ভাতগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার আওলাদ আলী, উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমেদ, দোলারবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আমির উদ্দিন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গিয়াস মিয়া, মঈনপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল জলিল ও আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল হোসেন।
উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য আব্দুল খালিক, রফিক উদ্দিন, মঈনপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান খাঁন, আনুজানী জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হক, ভাতগাও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুল বারী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনতা মহাবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করে একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাদিক আলম এবং গীতা পাঠ করে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী পূরবী দাস মুক্তা। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ প্রেবি/ শাদিআচৌ-০২




