সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বাদাম তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে একই গ্রামের তিন শিশু নিহত হয়েছে।
নিহত শিশুরা হল- উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দরপাহাড়ী গ্রামের আব্দুল আলীমের শিশু কন্যা তাওহিদা বেগম (১১), একই গ্রামের ফজর রহমানের মেয়ে রিপা বেগম (১২) এবং আব্দুল আজিজের ছেলে আমিরুল ইসলাম (১১)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও ৮ জন।
এর মধ্যে গুরুতর আহত হবি রহমান ও রিয়া মনি নামে দুইজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও স্থানীয় বাদাঘাট বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে এই বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটেছে।
এক সঙ্গে তিন শিশু নিহতের ঘটনায় সুন্দরপাহাড়ী গ্রামের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত কান্নায় আকাশ পাতাল ভারী হয়ে উঠছে। গ্রামের লোকজন বলেছেন হঠাৎ কি হয়ে গেল, সকালে বাচ্চাগুলো এক খেলা করছে আবার এক সঙ্গে চলেও গেল।
পুলিশ ও নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের ছোট বড় প্রায় ১১ জন গ্রাম সংলগ্ন হাওরের বাদাম ক্ষেতে বাদাম তুলতে যান। বাদাম তুলার একপর্যায়ে হঠাৎ দিন অন্ধকার করে বিকট শব্দে আকষ্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই দুই শিশু মারা যান এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আরও এক শিশু।
নিহত আমিরুলের পিতা আব্দুল আজিজ বলেন, কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি দেখে খেতে বাদাম তুলতে গিয়েছিল আমিরুল সহ ১০ থেকে ১২জন। সকালে তেম বৃষ্টি ছিলনা, তবে চারদিক কিছুটা অন্ধকার ছিল। এরই হালকা বাতাশ শুরু হয় এবং বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। ওরা খেত থেকে উঠে আসতে আসতে বিকট শব্দ করে টাডা ওদের উপর পড়লে খেতেই সবাই শুয়ে পরে। পরে চিৎকার দিলে বাড়ীর লোকজন এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাদের মৃত্যু ঘোষনা করে।
এঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসন থেকে শিশুদের দাপন কাপনের জন্য নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে তাৎক্ষনিক ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। অপরদিকে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ৫হাজার করে টাকা অনুদানন দিয়েছেন।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পেরেছি নিহত রিপা ৫ শ্রেনী, আমিরুল ইসলাম ৬ষ্ট এবং তাওহিদা ৭ম শ্রেনীতে ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো। তাদের অকাল মৃত্যুতে পুরো গ্রামবাসী কাঁদছে। তাদের কান্নায় আকাশ পাতাল ভারী হয়ে উঠছে।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, বাড়ীর সামনের খেতে বাদাম তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে তিন শিশু ঘনাস্থলেই মারা গেছে। নিহত শিশুদের পরিবারের পক্ষ্য থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় মানবিক বিবেচনায় ময়নাতদন্ত বিহীন শিশুদের লাশ তাদের পবিারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবার ও গ্রামবাসীর মধ্যে এক হৃদয় বিধারক দৃশ্য দেখতে পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ্য থেকে নিহতদের প্রত্যেক পবিবারকে তাৎক্ষনিক নগদ ২০ হাজার করে টাকা অনুদান দিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ্য থেকে সমবেদনা জানিয়েছি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএআর/এসডি-৩১




