সুনামগঞ্জের দোয়ারবাজারের পল্লীতে গরু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে শুক্রবার (২০ মে) সকালে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।

 


হামলায় গুরুতর আহত আনোয়ার হোসেন (২৫), তার স্ত্রী রুনা বেগম (২৩) ও তার মা রোকেয়া বেগম (৫৫) সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।


 
এ ঘটনায় কাশেম ভূঁইয়া ও তার ছেলে কাউছার ভূঁইয়া নামের দুই আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। অন্য আসামিরা পালাতক রয়েছে।


 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কলাউড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বাড়ির সীমানায় দেয়ালের পাশ ঘিরেই রয়েছে গ্রামের কাশেম ভূঁইয়ার ফসলি জমি। ওই সুবাদে প্রায়ই দেয়াল ঘেষে গর্ত খুঁড়ে মাটি কাটেন কাশেম ভূঁইয়া। এতে দেয়াল ভেঙ্গে যায় এবং কিছু অংশ হেলে যায়। মাটি কাটতে বাধা দেয়া নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এরই জেরে শুক্রবার সকালে কাশেম ভূঁইয়া, তার ছেলে কাউছার ভূঁইয়া, কাইয়ুম ভূঁইয়াসহ ৮-১০জন মিলে আনোয়ারের বাড়ির গেট ভেঙ্গে দা, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বাড়ির লোকজনের উপর অর্তকিত হমলা চালায়।


 
আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার বাড়ির বাউন্ডারি দেয়ালের নিচ দিয়ে  মাটি কাটার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করায় আমাদের ওপর হামালা চালায় কাশেম ভূঁইয়া ও তার লোকজন। আমার মা ও স্ত্রী বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। আমি মধ্য কলাউড়া থেকে এখানে এসে নতুন বাড়ি করেছি। আশেপাশে আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন না থাকায় আমাকে এখান থেকে হঠাতেই আমার ওপর প্রায়ই বর্বর অত্যাচার চালায় তারা।  এমনকি আমাকে প্রাণে মেরে লাশ গুম করার হুমকিও দিয়েছে তারা।”

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানায়, কাশেম ভূঁইয়া ও তার লোকজন সরকারদলীয় প্রভাব খাটিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষের বাড়িতে হামলা চালানোই তাদের পেশা। স্থানীয় কলাউড়া মার্কেটে আগত ক্রেতাদের সাথেও কাশেম ভূঁইয়ার পরিবারের প্রায়ই ঝগড়া-ঝাটি হয়।


 
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবদুলাল ধর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হামলার ঘটনায় আনোয়ার হোসেন থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে আটক করেছি। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৯