দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানবসভ্যতার ইতিহাসে এ পর্যন্ত সংঘটিত সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল- দীর্ঘ এই ছয় বছর চলে যুদ্ধটি। এই যুদ্ধে যারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে সিলেট বিভাগের দুই ব্যক্তি এখনও বেঁচে আছেন। তাদের মধ্যে একজন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার।
আজও তাঁর চোখে ভেসে উঠে বিভীষিকাময় ওই যুদ্ধের দিনগুলো।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহ নূর মোহাম্মদের বয়স ১০০ পূর্ণ হচ্ছে আর কয়েক মাস পর। ঘরের বাইরে তেমন একটা বের হন না তিনি। বাড়িতে কোরান শরীফ ও পত্রিকা পড়েই সময় কাটে তার। বার্ধক্যের বাইরে দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়ছেন তিনি। স্মরণশক্তিও কমে আসছে।
প্রায় শতবর্ষী এ বৃদ্ধকে দেখে বোঝার উপায় নেই পৃথিবীর ইতিহাসের ভয়াবহতম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীর সৈনিক তিনি। যৌবনের উত্তাল দিনগুলোয় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে প্রবল পরাক্রমে লড়াই করেছেন তিনি। বীরত্বের জন্য পদকও পেয়েছেন কয়েকটি। আবার যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রত্যক্ষদর্শী এ বৃদ্ধ পরে সৈনিকবৃত্তি ছেড়ে বেসামরিক জীবনে ফিরেও এসেছিলেন।
বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে প্রায় ৭৭ বছর হলো। পূর্ববাংলার যুদ্ধফেরত সে সৈনিকদের মধ্যে এখন বেঁচে রয়েছেন গুটিকয়েক। এর মধ্যে একজন দক্ষিণ সুরমার এই নূর মোহাম্মদ। বিশ্বযুদ্ধে অবদান ও ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ভাতা ও সহায়তা পাচ্ছেন তিনি।
শাহ নূর মোহাম্মদ সম্পর্কে জানা যায়, যুদ্ধের পরপরই সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। যদিও যুদ্ধকালেই সৈনিক হিসেবে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন নূর মোহাম্মদ। যুদ্ধ শুরুর পর ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ রাজকীয় সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৩ সালে পাঞ্জাবের ফিরোজপুর ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে তাকে বদলি করা হয় ইতালিতে। সেখানে জার্মান সৈন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে দক্ষতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন তিনি। সেখানে দখলদার জার্মানরা পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে। ১৯৪৬ পর্যন্ত সেখানে ছিলেন তিনি। সেখানে বেশ কয়েকটি স্থলযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। যুদ্ধে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৩৯-৪৫ স্টার, ইতালি স্টার, ডিফেন্স মেডেল, ওয়ার মেডেল ১৯৩৯-১৯৪৫ ইত্যাদি পদক অর্জন করেন তিনি।
যুদ্ধ শেষে তাকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। মা অসুস্থ থাকায় দেশে ফিরে আসেন তিনি। একই সঙ্গে ফিরে আসেন বেসামরিক জীবনেও।
শাহ নূর মোহাম্মদের ছোট ছেলে শাহ খাদেমুল ইসলাম ফারুক জানান, তার বাবা এখন অনেকটাই অসুস্থ। তবে ঘরের মধ্যে হাঁটাচলা করতে পারেন। ব্রিটিশরা এখনো বিভিন্ন সময়ে তাকে স্মরণ করে। গত সপ্তাহেই ব্রিটিশ একটি প্রতিনিধি দলের পক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শাহ নূর মোহাম্মদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম/ এসডি-১৫




