সাকিউল্যান্টস্। নামটি অনেকের কাছেই জানা। আবারও কারও কাছে অজানা। দেশের বাগানবিলাসী, বিশেষ করে শহুরে বহুতল বাড়ির ছাদে যারা বাগান করে থাকেন তারা ফুল-ফলের বাগানের সাথে ইদানিং তালিকায় যুক্ত করেছেন নতুন এক নাম- স্যাকিউল্যান্টস্।
হবিগঞ্জে এমনই এক ব্যতিক্রমী বাগানবিলাসীর গল্প রয়েছে। নিজের তিন তলা বাড়ির ছাদে সাকিউল্যান্টস্-এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক বাগান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হবিগঞ্জের অ্যাডভোকেট শামীম পারভীন। শহরের রাজনগর এলাকায় নিজ বাসার ছাদে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন পাথুরে উদ্ভিদ সাকিউল্যান্টস্-এর বাগান।
সরেজমিন তার সাকিউল্যান্টসের বাগান ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন আকারের মাটি পাত্রে সাকিউল্যান্টস্ উদ্ভিদের বাগান করেছেন তিনি। এতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০০ রকমের সাকিউল্যান্টস্ উদ্ভিদ রয়েছে তার বাগানে।
শামীম পারভীন জানান, শখের বশে ৪/৫ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাকিউল্যান্টসের বাগান সম্পর্কে ধারণা পান তিনি। সাকিউল্যান্টসের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাগান করার। যেই চিন্তা সেই কাজ। অনলাইনে কয়েকটি সাকিউল্যান্টস্ গাছের অর্ডার করেন তিনি। পরে তিলে তিলে নিজের বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেন প্রায় দুইশ' প্রজাতির মনোমুগ্ধকর এক সাকিউল্যান্টস্ উদ্ভিদের বাগান।
শুরুতে শখের বশে ব্যতক্রমী এই উদ্ভিদের চাষ করলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে সাকিউল্যান্টসের চাষ করছেন তিনি। হবিগঞ্জসহ সারা দেশব্যাপী অনলাইনে এখন সাকিউল্যান্টসের চারা বিক্রি করে থাকেন ব্যতিক্রমী এই বাগানবিলাসী। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে 'সাকিউল্যান্টস্ পয়েন্ট' নামে একটি পেজও খুলেছেন। প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়মিত অর্ডার পাচ্ছেন শামীম পারভীন।
এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে শামীম পারভীন জানান, সম্পূর্ণ মাটি ছাড়া এ উদ্ভিদের চাষ করতে প্রয়োজন হয় সময়োপযোগী যত্নআত্তি। তিনি জানান, এ উদ্ভিদ চাষে মাটির প্রয়োজন হয়না। তবে ৪০ শতাংশ সিলেকশন বালুসহ বিভিন্ন রকমের সার তৈরি করে দিতে হয়। আর গাছের বাহারি পাতাগুলো পানি ধারণ ক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারে বলে এতে নিয়মিত পানিও দিতে হয় না। মনোমুগ্ধকর এ উদ্ভিদের পাতাগুলো বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন রং ধারণ করে বলে বাগানবিলাসীদের কাছে এর কদরও বেশি।
স্যাকিউলেন্টস উদ্ভিদগুলো রসালো পাতাবিশিষ্ট বলে এরা অনেক দিন পানি দেওয়া, যত্নআত্তি ছাড়াই বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকতে পারে দীর্ঘদিন। তাছাড়া গাছের পাতা বা গোড়া থেকেই আবারও জন্মায় অনেক চারাগাছ। এ ছাড়া চটজলদি বাসাবাড়ি বদলের সময় এদের অনায়াসেই সঙ্গী করে নিয়ে যাওয়া যায় সহজে বহন করা যায় বলে এর জনপ্রিতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। আকারে ছোট এই গাছগুলো রাখতে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। ডেস্কের কোনায়, দেয়ালে একেবারে বেডসাইড টেবিলেও রাখা যায় বাহারি এই উদ্ভিদগুলো। শহরের চরম যান্ত্রিক জীবনের একাকিত্ব দূর করতে সাকিউল্যান্টস্ উদ্ভিদ ভালো ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ব্যতিক্রমী বাগানবিলাসী শামীম পারভীন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / জসিম / ডি.আর




