সিলেটের জৈন্তাপুরে উপজেলায় পাহাড় কর্তন করে অপকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে অন্ততঃ চারশত পরিবার ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

এতে যেকোনো সময় পাহাড় ধসে চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের সাতজনি গ্রামের মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। অথচ উপজলা প্রশাসনের পক্ষ হতে নেওয়া হচ্ছে না কার্যকর পদক্ষেপ।


সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, চিকনাগুল ইউপির সতজনি গ্রামে বর্তমানে অন্তত ১৬টি পরিবার মারাত্মক ঝুঁকির  মধ্যে রয়েছে। বেশিরভাগ পরিবার  টিলা কেটে অপরিকল্পিতভাবে বাসস্থান তৈরি করেছে। সতজনি গ্রামের প্রবেশ পথে দুটি পাহাড় কেটে মধ্যেস্থানে ঘর নির্মাণ করেছে একটি পরিবার। দুদিক কিংবা যে কোনো একদিক থেকে পাহাড়ধস হলে প্রাণহানি ঘটতে পারে ওই ঘরের বাসিন্দাদের। 

এছাড়াও চিকনাগুল ইউনিয়নের উমনপুর, কহাইগড়, খাঁন চা-বাগন একাংশ, সাতজনি, বিপিএল, ফতেপুর ইউনিয়নের শিকারখা, চাঁনঘাট, হরিপুর, উৎলাপাড়, জলাটিলা, বাগেরখাল, দলইপাড়া, শ্যামপুর, চাঁনঘাট, জার্মানি টিলা, চারিকাটা ইউনিয়নের পঞ্চাশের টিলা, বনপাড়া, লামাপাড়া, থুবাং, গৌরী, কুমারপাড়া, ভিত্রিখেল, গুচ্ছগ্রাম, চামটি, নয়াখেল, ইটাখলা, বালিদাঁড়া, লালাখাল, মনতলা, বনপাড়া, নিজপাট ইউনিয়নের কালিঞ্জি, কামরাঙ্গী, বাইরাখেল, নয়াগ্রাম, গোয়াবাড়ী, কমলাবাড়ী, সারীঘাট, ঢুপি, দিগারাইল এবং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের আসামপাড়া, গুচ্ছগ্রাম, আলুবাগান, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর এলাকায় অন্তত: চার শতাধিক পরিবার অপরিকল্পিতভাবে টিলার পাদদেশে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে।

চলমান বর্ষায় ভারী বর্ষণ ও অতিবৃষ্টির কারণে ৫টি ইউপির কয়েকটি গ্রামে ইতোমধ্যে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ৬ জুন ভোর ৫টায় চিকনাগুল ইউপির সাতজনি গ্রামে পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের ৪জনের মৃত্যু ও ৮ জন আহত হন। একই গ্রামে গত ৫ জুন পাহাড় ধসে একটি গোয়ালঘরে থাক ১টি গাভীর মৃত্যু হয়। এর আগের দিন (৪ জুন) একই গ্রামে দুটি স্থানে পাহাড় ধসে পড়ে। তবে এ দুই ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জানা যায়, ২০০৮ সালে চারিকাটা ইউনিয়নের বালিদাঁড়া গ্রামে পাহাড় ধসে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয় এবং ২জন আহত হন। ২০০০ সাল হতে জৈন্তাপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪০টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এত পাহাড় ধসের ঘটনার পরও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। 

উপজেলার বাসিন্দা সাজ উদ্দিন, নাজমুল ইসলাম, হানিফ আহমদ, জাকারিয়া মাহমুদ, হোসেন আহমদ, খায়রুল ইসলাম, শামীম আহমদ, তোফাজ্জুল ইসলাম ও আব্দুল করিম এ প্রতিবেদককে জানা, পাহাড় ও টিলা কাটার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ পরিবেশ অধিদপ্তরকে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। হরিপুর এলাকার চিহ্নিত একটি পাহাড়খেকু মহল বর্তমানে দুর্ঘটনার পরও থেমে থাকেনি। তারা পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে অবৈধভাবে বাজারের একটি ভিটায় ফেলছে। রাস্তা ভরাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, বাজার ভরাটের নামে অবৈধ পন্থায় উপজেলার পাহাড় ও টিলাগুলো কর্তন করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরও বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের পাহাড় ও টিলা কর্তন করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হলেও উপজেলা প্রশাসন নামমাত্র মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করলেও পরবর্তীতে ফের এসব পাহাড় কর্তন অব্যাহত থাকে।

এলাকাবাসীর দাবি- পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয় তবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে উপজেলার সবগুলো পাহাড় ও টিলা ধ্বংস হবে এবং মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হবে। 

পাহাড় ধস এবং পাহাড় কর্তনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর হতে সবকয়টি ইউনিয়নের পাহাড় ও টিলায় বসবাসকারীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অবৈধভাবে যে বা যারা পাহাড় কর্তন করবে উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশসনের নির্দেশনায় তাদের রিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / সাব্বির / ডালিম