যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যে জমকালো আয়োজনে মৃধা বেঙ্গলি কালচারাল সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে।

 


শনিবার বিকেলে ওয়ারেন শহরের মেমপিস এভিনিউয়ে বেলুন উড়িয়ে বাংলা সেন্টারের উদ্বোধন করেন মার্কিন চিকিৎসক ড. দেবাশীষ মৃধা।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বাংলাদেশি প্রবাসী সৃজনশীল মানুষের।

বিদেশে বেড়ে উঠা এ প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে কালচারাল সেন্টারটি গড়েন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত সেন্টাল ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. দেবাশীষ মৃধা। বরিশালের পিরোজপুর জেলার এ কৃতি সন্তান ১৯৯১ সালে আমেরিকা আসেন।

 

এদিকে কালচারাল সেন্টারের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ‘বাংলা উৎসব’। এ উৎসবে ছিল শিশু-কিশোরদের ম্যাথ অলিম্পিয়াড, চিত্রাঙ্কন ও ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা। সেন্টারের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মেলায় বইয়ের স্টল, দেশীয় পোশাক, দেশীয় খাবার ও জুয়েলারিসহ বাংলাদেশি প্রবাসী নারী উদ্যোক্তাদের দেশজ শিল্পের ২০ স্টল অংশ নেয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করে প্রবাসী শিল্পীরা।

 

অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ড. দেবাশীষ মৃধার সহধর্মীনি সুপ্রভাত মিশিগান পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি চিনু মৃধা।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন ডা. সুলতানা গজনবী। আরও বক্তব্য রাখেন কবি ও গীতিকার ইশতিয়াক আহমেদ রুপু, মিশিগান বাংলা প্রেসক্লাব সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল, মিশিগান বাংলা গান স্কুলের প্রিন্সিপাল আকরাম হোসেন, সুপ্রভাত মিশিগান সম্পাদক চিন্ময় আচার্য্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পুর্নেন্দু চক্রবর্তী অপু, অজিত দাশ, রতন হাওলাদার, জাহেদ জিয়া, শারমিন তানিম, রাজর্ষি চৌধুরী গৌরব প্রমুখ। সঞ্চালক ছিলেন সেন্টারের চিফ কোঅর্ডিনেটর মৃদুল কান্তি সরকার।

 

ম্যাথ অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন জাহেদ জিয়া ও রাবিতা ইউনা। এ প্রতিযোগিতায় ক-গ্রুপে বিজয়ী হয়েছে আরুশ চৌধুরী, অনিস্কা শর্মা, অরচিত চৌধুরী। খ গ্রুপে প্রতীক দাস, তাজরী ওয়ার্ডেন ও প্রমিতা বিশ্বাস। গ গ্রুপে অমিয় চৌধুরী, সৃজন আগরওয়াল ও অর্নব ঘোষাল।

 

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন অমৃতা মৃধা। ক গ্রুপে ইনায়া  ফাহাদ, সাইফান উদ্দিন ও শ্রাবণ সরকার। খ গ্রুপে শ্রেয়সী পাল, অর্নব ও প্রতীক দাস। খ গ্রুপে দেবশ্রী রায়, রিক ও রায়হান। ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতায় অরচিত চৌধুরী, মাহিকা সরকার ও শ্রেয়সী পাল ‍বিজয়ী হয়েছে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সৌরভ চৌধুরী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চিনু মৃধা।

 

মৃধা বেঙ্গলি কালচারাল সেন্টারে চালু হবে বাংলা ভাষা শিক্ষার স্কুল, বাংলা গানের স্কুল, নাচের স্কুল। এই সেন্টারে রয়েছে বাংলা সাহিত্য সংসদ ও জনপ্রিয় পত্রিকা সুপ্রভাত মিশিগানের অফিস। বসবে কবিতা পাঠের আসর। এ সেন্টারের উদ্যোগে উদযাপন করা হবে বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো। প্রতিবছর সেন্টার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা মেলা। ড. দেবাশীষ মৃধা এই সেন্টার গড়তে তিন লাখ ডলার খচর করেছেন। মৃধা পরিবার জানিয়েছে, সেন্টারের জন্য আরও দুই লাখ ডলার বাজেট রয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/টিআরএস/এসডি-১০