সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে ভোটের লড়াই শেষ হয়েছে বুধবার (১৫ জুন)। স্থানীয় সরকারের এসব নির্বাচনে এবারও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের জয়জয়কার।

বুধবার (১৫ জুন) সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, জকিগঞ্জে বাতিল হওয়া সুলতানপুর ও কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদ, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১টি ওয়ার্ড, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিম ইউনিয়ন এবং সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ও উত্তর ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।


দলীয় প্রতীকে ৭টি পৃথক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন মাত্র একজন। বাকিগুলোর অধিকাংশতেই স্বতন্ত্রের ব্যানারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে বিদ্রোহীকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুর শাফি চৌধুরী এলিম। উপজেলার মোট ১০২টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মঞ্জুর শাফি চৌধুরী এলিম পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯২০ ভোট। আর তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা শফিক উদ্দিন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৭০ ভোট।

বিয়ানীবাজার পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ফারুকুল হক। পৌরসভার ১০টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্র মিলিয়ে চামচ প্রতীক নিয়ে তিনি  ৪ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ আব্দুস সবুর (স্বতন্ত্র) মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৮ ভোট। আর আওয়ামী লীগের আবদুস শুকুর পেয়েছেন ২ হাজার ২৭০ ভোট।

এদিকে, জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ও কাজলসার ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বিদ্রোহীরা। সুলতানপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে পরাজিত করে বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম এবং কাজলসারে দলীয় প্রার্থী জুলকার নাইনকে পরাজিত করে বিদ্রোহী আশরাফুল আম্বিয়া বিজয়ী হয়েছেন।

সুলতানপুর ইউনিয়নে ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৭৩ ভোট।  

অপরদিকে, কাজলসার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুল আম্বিয়া ৩ হাজার ৬৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী বিএনপি নেতা চেরাগ আলী পেয়েছেন ২ হাজার ৯৭১ ভোট। আর নৌকার প্রার্থী জুলকারনাইন লস্কর ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৬৪৩টি।

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ছিলেন রেখাছ মিয়া। তিনি পেয়েছে ৪ হাজার ৭৭০ ভোট। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৪১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীকে পরাজিত করে স্বতন্ত্রের ব্যানারে বিজয়ী হয়েছেন দুই প্রার্থী। জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে স্বতন্ত্রের ব্যানারে মো. কামাল চশমা প্রতিকে ৩ হাজার ৮৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আনারস প্রতীকে সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার পেয়েছেন ২৫৫৯টি ভোট। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জামিল আহমদ জুয়েল নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৪৬৬ ভোট।

জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে হানিফ মিয়া ঘোড়া প্রতীকে মোট ভোট পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এম নবী হোসেন নৌকা প্রতিক ২ হাজার ৮১০ ভোট পেয়েছেন।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিডি