সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার গ্রামের পর গ্রামের মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন। এসব গ্রামের মানুষ গবাদি পশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। উপজেলার উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের বসতঘর মাটিয়ান হাওরের ভয়ঙ্কর ঢেউয়ে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। এসব গ্রামের লোকজন বসতঘর রক্ষায় রাতদিন ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করছেন।

 



এইদিকে গত বুধবার সকাল থেকে আনোয়ারপুর- বালিজুড়ি সড়কের ৫০ মিটার ও সক্তিয়ারখলা সড়কের ১০০ মিটার পানিতে তালিয়ে তাহিরপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কের দুই পাশে অটো, সিএনজি, ট্রাকসহ বিভিন্ন পন্যবাহী যানবাহন আটকা পড়েছে। অপরদিকে বাগলী থেকে তাহিরপুর সীমান্ত সড়কের লামাকাটা, লালঘাট, বাশঁতলা, চাঁনপুর সহ সড়কের বিভিন্ন স্পট পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। উপজেলার ১৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্টানের মধ্যে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্টানের আঙ্গিনায় পানি টইটম্বুর করছে।

 


জানা গেছে, উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের জয়পুর, গোলাবাড়ী, মন্দিয়াতা, তরং, শিবরামপুর, কালা শ্রীপুর ,মাটিয়ান, জামালপুর, নবাবপুর, ভোরাঘাট, দুধের আউটা, তেলীগাও, দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাও, লতিবপুর, সুলেমানপুর সহ উপজেলার গ্রামের পর গ্রামের মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন।

 


হাওর পাড়ের রতন শ্রী গ্রামের ডালিম জানান, উপজেলা সদরের রতনশ্রী গ্রামের অধিকাংশ ঘরের নীচের অংশের মাটি মাটিয়ান হাওরের ভংকর ঢেউয়ে সরে যাচ্ছে। আর এসব বাড়ী ঘর রক্ষায় গ্রামের লোকজন বাঁশ কোঠা দিয়ে চেষ্টা করছেন। 

 


মাওলানা এরশাদুল আলম জানান, অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রোপনকৃত চারা ধানের বিজ পানিতে ভেসে গেছে। এতে এ ইউনিয়নের অনেক কৃষক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ্য হবেন। গত কয়েক বছরের মধ্যে এতো পানি এ ইউনিয়বাসী দেখেন নি।

 


তাহিরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান শেখ জানান, উপজেলার ১৩৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশির ভাগই বন্যার পানিতে প্লাবিত। সড়ক, গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না। ১১ টি প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে যাওয়ায় পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে।

 


তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হন কবির বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার পানি কবলিত মাহমুদপুর, ফিরোজপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেছি। গ্রামগুলোর কানায় কানায় পানি পরিপূর্ণ। সকাল থেকে যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এ ভাবে বৃদ্ধি পেলে বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / এমএআর / ইআ