সিলেটে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে ঘরের সবাইকে অচেতন করে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিলেট এয়ারপোর্ট থানার নতুনবাজার বড়শালা এলাকার আহমদ হাউজিং-এর ৯৯ চৌধুরী মঞ্জিল নামক বাসায় বুধবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ওই ঘরের বাসিন্দাদের স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া চুরির ঘটনায় নগদ অর্থসহ অন্ততঃ ৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুনবাজার বড়শালা এলাকার আহমদ হাউজিং-এর ৯৯ চৌধুরী মঞ্জিল আমিনুল ইসলাম সরকার নামের এক ব্যক্তি তার পরিবার নিয়ে ভাড়াটে থাকেন। বুধবার রাতের খাবার খেয়ে তারা সবাই ঘুমিয়ে যান। সকাল ৮টার দিকে আমিনুল ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাসার পেছন দিকের গ্রিল কাটা এবং স্টিলের আলমিরা খোলা ও ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করা। এসময় খোঁজ নিয়ে দেখেন- ঘরে থাকা নগদ দেড় লক্ষ টাকা, আড়াই লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার, ৩টি মোবাইল ফোন সেট ও জরুরি কিছু কাগজপত্রসহ অন্ততঃ ৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুট হয়ে গেছে।
এসময় আমিনুল তার স্ত্রী-সন্তানদের ডাকতে গিয়ে দেখেন তারা অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছেন। এসময় তাদের ডাকাডাকি করলে তারা বমি করতে শুরু করেন। খবর পেয়ে আমিনুলের স্ত্রীর ভাই বড়শালা এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ ওই বাসায় গিয়ে অসুস্থদের উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় অসুস্থরা হলেন- মোছা. ছামিনা আক্তার (৪৫), রিনি আক্তার (২৫), আরিফা আক্তার (২২), রুমি আক্তার (১৭), বেলা বেগম (৪৮) ও রনি আহমদ (২৭)।
এদের মধ্যে ৩ জন গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছেন আমিনুলের স্ত্রীর ভাই আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, ‘চুরি করার জন্য সম্ভবত চোরেরা কাউকে দিয়ে তাদের রাতের খাবারের সঙ্গে অচেতন হওয়ার ওষুধ মিশিয়ে রেখেছিলো। তাই তারা রাতের খাবার খেয়েই অচেতন হয়ে পড়েন এবং সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
এ ঘটনায় মামলা দায়েরে প্রস্তুতি চলছে জানান আব্দুস সামাদ।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির সিলেটভিউ-কে বলেন, খবর পেয়েই আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অসুস্থরা সুস্থ হলে তাদের জবানবন্দি নিয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




