সিলেটে বন্যার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে করে সেখানে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির আভাস তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।সিলেটের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় তাদের কাছে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। 

জানা গেছে, সিলেট নগরীতে অনেক এলাকায় বাসায় দুই তলা ও তিন তলাতে মানুষ আটকা পড়েছেন। তবে উপশহর এলাকায় কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী বুক-সমান পানিতে নেমে মাইকিং করতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়. সঙ্গে করে তারা নিয়ে যাচ্ছেন পানির বোতলও।


এই দলের একজন সুলায়মান মিয়া বলেন, যে তার এলাকা একতলা সমান পানিতে ডুবে গেছে। দুই তিন তলায় কেউ আছেন কি না তারা সেটা খুঁজে দেখছেন এবং তাদেরকে তিনি অন্তত খাবার পানি দিয়ে সাহায্য করতে চান। 

তিনি আরো বলেন, এই এলাকাতে বলা যায় বেশ বিত্তবানরা থাকেন। এখানে দুই তলা থেকে চার তলা পর্যন্ত বাড়িতে মানুষ আটকে আছে। যারা বারান্দা থেকে আমাদের কাছে পানি চাচ্ছেন তাদেরকে দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের একার পক্ষে একাজ করা সম্ভব না। আর বেশি দূর যেতেও পারবো না। পানির গভীরতা সেখানে আরো বেশি বলেও জানান তিনি। 

এদিকে, সুনামগঞ্জের মত সিলেটেও এখন মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে। একারণে কে কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন তার খবর নিতে পারছেন না পরিবার বা আত্মীয় স্বজনরা। এ ছাড়াও সিলেটের বাইরে থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সিলেটেই আটকে পড়েছেন এমন অনেকে। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

রহিম নামের একজন বলেন, আমার স্ত্রী, দুই সন্তান সবাই সুনামগঞ্জে। আমি বন্যার কথা শুনে ঢাকা থেকে আসছি। এখন তো সুনামগঞ্জে যেতে পারছি না। মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই। আমি জানি না তারা কোথায় আছে।

আরেকজন বলেন, কুমিল্লা থেকে আসছি। এখনতো আর কোথাও যেতে পারছি না। পরিবার কোথায় আশ্রয় নিয়েছে তার খোঁজ এখনও পাই নি। জেলা প্রশাসক সীমিত আকারে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে বলে দাবি করলেও, সুনামগঞ্জের কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সিলেট শহরের বাসিন্দা থৌদাম বৌলি বলেন, সুনামগঞ্জ এবং সিলেটের আশেপাশের এলাকার মানুষজন এসে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আমাদের এলাকায় এখনো পানি আসে নি। তবে আমরা বাইরে বের হয়ে শুকনা খাবার বা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছি না। কারণ দোকান সব বন্ধ, আর যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো অনেক দাম। আমার জীবনে আমি এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি দেখিনি কখনো।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, শহর থেকে পানির উচ্চতা কিছুটা কমলেও জেলার ৯০ শতাংশ এখনও পানির নিচে। জেলার ৭০ হাজারের মতো মানুষ ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন।  শুক্রবার মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর সেখানে বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে কর্মকর্তারা বলছেন, হাওর ও অন্যান্য প্রত্যন্ত এলাকার যারা নিরাপদ দূরত্বে এখনো সরে আসতে পারেন নি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ কেআরএস-০৫