(প্রতীকী ছবি)
সিলেটে থামছে না গুজবের মাধ্যমে ডাকাত আতঙ্ক ছড়ানো। একদিকে ভয়াল বন্যার থাবা, অন্যদিকে মিথ্যা ডাকাত আতঙ্ক- এ অবস্থায় দিশেহারা সিলেটের বন্যার্ত অসহায় মানুষ। সোমবার দিবাগত রাতেও সিলেট নগরী এবং জেলার বিশ্বনাথে গুজব ছড়িয়ে ডাকাত আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে কঠোর হচ্ছে পুলিশ। যে বা যারা যে পদ্ধতিতে গুজব ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে মাঠে কাজ করছে পুলিশের সাইবার ইউনিট। গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত শনিবার রাত থেকে সিলেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি চক্র ডাকাত আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করে। বুঝে-না বুঝে অনেক অতিউৎসাহী মানুষ সেই গুজবে গা ভাসিয়ে এসব পোস্ট নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার বা কপি-পেস্ট করছেন। এমনকি মসজিদের মাইকেও ডাকাত পড়ার ঘোষণা দিয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলা হচ্ছে।
সর্বশেষ সোমবার দিবাগত (২১ জুন) রাতেও সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ ও হালুমাঝি জামে মসজিদে মাইকিং করে বলা হয়- ডাকাতরা সুরমা নদীর তীরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে ভিড়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে মাইকে বলা হয়।
এছাড়া সিলেটের বিশ্বনাথে দুই ডাকাত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে বলেও ফেসবুকে অপপ্রচার চালানো হয়। কিন্তু যে ছবিটি দিয়ে এ অপপ্রচার চালানো হয় সেটি গত বছরের।
কুচক্রি মহলের এমন অপপ্রচারের ফলে ডাকাত আতঙ্কে নগরীসহ সিলেটের বিভিন্ন গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন। অনেকে বাসাবাড়িতে না ঘুমিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। এই গুজবের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও রাতভর ছুটোছুটি করতে হচ্ছে।
তবে মানুষজনকে নির্ভয় দিয়ে বলছে- ডাকাত আনাগোনার বিষয়টি পুরোটাই গুজব। ফেসবুকে গুজব রটিয়ে একটি চক্র বানভাসি মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সোমবার দিবাগত রাতে গুজব সৃষ্টির পর সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন ‘sp sylhet’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টে পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন- ‘‘গত অক্টোবরের ছবি দিয়ে ফেসবুকে ‘বিশ্বনাথের ডাকাত আটক’ বিষয়ে গুজব ছড়ানাে হচ্ছে। গত বছর অক্টোবর মাসে দুজন ডাকাতকে অস্ত্রসহ বিশ্বনাথ থানা গ্রেপ্তার করেছিল। যে কর্মকর্তা সেই সময়ে এ ঘটনায় ডাকাতদের কে আটক করেছিলেন তিনি বর্তমানে বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত আছেন।
বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ইতােমধ্যে কিছু ফেসবুক আইডি এবং পেইজ মনিটরিং এর আওতায় এনেছি। আমাদের সাইবার ইউনিট কাজ করছে। শীঘ্রই গুজব ছড়ানাের দায়ে এদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। বিশ্বনাথে কোনো ডাকাতির ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি। বর্তমানে এ বন্যার সময় সিলেট জেলার কোথাও কোনাে ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়নি। কিছু খারাপ লােক সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য, মানুষকে কষ্ট দেওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের স্ট্যাটাস দিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। এদের বিষয়ে সবাইকে সাবধান থাকার জন্য অনুরােধ করছি। প্রয়ােজনে আমাদের জরুরি পরিসেবা ৯৯৯ এ যােগাযােগ করুন।’’
এর আগে গত রবিবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বন্যা সংক্রান্ত প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানিয়েছেন, গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়েছে। সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা গুজব ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে ডাকাত আতঙ্ক ধরিয়ে দিয়েছিল তাদের তালিকা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




