স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রায় ৩ হাজার বানভাসি মানুষ ও ১ হাজার গবাদিপশুর প্রাণ রক্ষায় ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয় এবং নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের দশগাঁও নয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্র।
ভয়াল এ প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন বিপদাপন্ন মানুষ ও তাদের সম্পদ সুরক্ষায় নবনির্মিত ঐ দুটি আশ্রয় কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করায় আশ্রয় কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন।
দশগাওঁ নয়াগাঁও উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে নির্মিত বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া মনোয়ারা বেগম বলেন, জীবনে কোন দিন এত বড় বন্যা দেখিনি। বন্যার পানি আমার বসতঘরের চালে উঠে। উপায়ন্তর না দেখে ২ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে আমরা স্বামী স্ত্রী আশ্রয় কেন্দ্রে আসি। আশ্রয় কেন্দ্র আমাদের প্রাণ রক্ষায় ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছে।
পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রের আবুল মিয়া বলেন, স্মরণ কালের ভয়াবহ এ বন্যয় আমার বসতঘরে কোমর পানি ছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে ৪ ছেলে,৩ মেয়ে ও ১০ টি গবাদিপশুসহ নবনির্মিত বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে দূর্যোগকালীণ সময় পার করছি। বিপদকালীণ সময়ে নিরাপদ ভাবে জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করায় আশ্রয় কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করেছি। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের ভাল রাখেন।
গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় দেড় হাজার মানুষ ছিলেন। প্রাকৃতিক এ দূর্যোগের সময় আশ্রয় কেন্দ্রটি সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল বলেন, সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি সার্বিক সহযোগিতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের দশগাওঁ নওয়াগাঁও উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন 'বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র' নির্মাণ করা হয়েছে। বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি উদ্বোধন না হলেও স্মরণ কালের ভয়াবহ এ বন্যায় দেড় হাজার মানুষ ও প্রায় ৫ শতাধিক গবাদিপশুর জীবন রক্ষায় ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছে। বিপদাপন্ন মানুষের জানমালের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার কারণে আজ ভূয়সী প্রশংসায় ভাসছেন সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরোকায়স্থসহ সংশ্লিষ্টরা। তিনি আরো জানান, দশগাওঁ নয়াগাঁও উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ আশ্রয় কেন্দ্রে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। শিশুটির নাম আমরা সকলে মিলে রেখেছি বন্যা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বন্যাপ্রবণ ও নদীভাঙন এলাকায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটির আওতায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ভবনটির নির্মাণ কাজ করছে ঢাকা শেরে নগরের পশ্চিম রাজা বাজার এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিভাইন এন্টারপ্রাইজ। ৩০ জুন ২০২০ সালে দৃষ্টিনন্দন এ আশ্রয়কেন্দ্রটির নির্মাণ শুরু হয়। ত্রি'তল বিশিষ্ট ভবনটির গ্রাউন্ড ফ্লোর থাকবে সম্পুর্ন ফাঁকা। প্রথম তলায় গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, মালামাল রাখার ব্যবস্থার পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় দুর্যোগের সময় নারী-পুরুষ-শিশু আশ্রয় নেয়া সুযোগ ছিলো।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ বলেন, দশগাওঁ নওয়াগাঁও উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এ আশ্রয়কেন্দ্রের প্রতি তলার আয়তন ৪ হাজার ২৬২ দশমিক ৭৫ বর্গফুট এবং ভবনটির মোট আয়তন ১২ হাজার ৭৮৮ দশমিক ২৫ বর্গফুট। ফলে প্রাকৃতিক এ দূর্যোগ অনেক পরিবার এখানে আশ্রয় নেয়াটা স্বাভাবিক।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, 'প্রাকৃতিক এ দুর্যোগকালে আক্রান্ত মানুষের জীবন, প্রাণিসম্পদ ও অন্যান্য সম্পদ রক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্র গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।
তিনি আরো বলেন, দশগাওঁ নয়াগাঁও উচ্চবিদ্যালয় কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৪০০ জন নারী-পুরুষ-শিশু ও ১০০টি গবাদিপশু ধারণ ক্ষমতার এ ভবনে খাবার পানির জন্য গভীর নলকূপ অন্যান্য কাজে ব্যবহারে জন্য অগভীর নলকূপ, বাথরুম এবং পানি উঠানোর মটর বসানো হবে। বৈদ্যুতিক সংযোগের পাশাপাশি রাতের বেলা সৌর বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত হবে ভবন। শুধু তাই নয়, ভবনটিতে প্রবেশের জন্য ৮৫০ ফুট সংযোগ সড়কও তৈরি করা হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএএম/এসডি-১৮




