ছবি প্রথম আলো'র সৌজন্যে

তামান্না আক্তার ও তার ছোট ভাই সৌরভ মিয়া। গত ১৬ জুন নৌকাডুবিতে একসঙ্গে প্রাণ যায় ভাই-বোনের। তামান্না এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো, সৌরভ ছিলো পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। মা-বাবাসহ পরিবারের সবার কাছে এখন তারা শুধুই স্মৃতি। 

তাদের হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা শোকে মুহ্যমান। তামান্না-সৌরভের ছবি মুঠোফোনে দেখে দেখে কিছুক্ষণ পর পর ডুকরে কেঁদে উঠেন তাদের মা আফরোজা বেগম।


বন্যার পানিতে ডুবে মারা যাওয়া তামান্না আক্তার ও সৌরভ মিয়ার বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে।  গত ১৬ জুন সকাল ১০টার দিকে ছোট ভাই সৌরভকে সঙ্গে নিয়ে তামান্না নৌকায় করে স্কুল থেকে পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে যাচ্ছিল। কিন্তু বাড়ি থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর বানের স্রোতে পড়ে তাদের নৌকাটি ডুবে যায়। এতে তাদের দুজনের মৃত্যু হয়। 

তামান্নাদের বাড়ি গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে পান, পরিবারের সবাই দুই ভাইবোনের মৃত্যুশোকে কাতর। ঘরের ভেতরে বিছানায় শুয়ে ছিলেন ওদের মা আফরোজা বেগম। মুঠোফোনে সন্তানদের ছবি দেখছিলেন আর কিছুক্ষণ পরপর ডুকরে কেঁদে উঠছিলেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আল্লাগো তুমি আমার সবতা ভাসাই নিতায়। আমার কুনো দুঃখ আছিল না। তুমি কেনে আমার দুই বাইচ্চারে তোমার কাছে নিলায়। তারের থুইয়া আমি কিলা বাঁচমুগো আল্লাহ।’

জানা যায়, আফসানা আক্তার নামে তামান্নার আরেক বোন আছেন। তাঁর বিয়ে হয়ে গেছে। 

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা। এবার বন্যার শুরুতেই পানি প্রচণ্ড বেগে ওই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত করে। 

দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই উপজেলার বন্যায় মোট তিনজন মারা গেছে। বজ্রপাতে মারা গেছে চারজন। আর সুরমা ইউনিয়নে বজ্রপাতে এই দুই ভাইবোন মারা গেছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা প্রিয়াংকা বলেন, ‘আমি ঘটনা শুনেই ওই ভাই–বোনকে দেখতে যাই। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। তাৎক্ষণিক সরকারের পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।’


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম