সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে কর্মহীন মানুষের মাঝে সরকারী (ভিজিএফ) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত ১০ কেজি চালের পরিবর্তে প্রত্যেককে ৬-৭ কেজি করে বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ সুবিধাভোগীদের।

 


বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সকালে ৫ নং ওয়ার্ডের এ চাল বিতরণকালে অনিয়ম দেখা দিলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় জনসাধারণ। অনিয়মের অভিযোগে চাল বিতরণ বন্ধও রাখা হয়। 

 

সরজমিনে দেখা যায়, কর্মহীন মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত তালিকাভুক্ত প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে দেখা গেছে তারা পাচ্ছেন ৬-৭ কেজি করে। এমন ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয় উপস্থিত সুবিধাভোগীদের মাঝে।

 

সুবিধাভোগীরা জানান, তাদের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু তাদের দেওয়া হচ্ছে ৬-৭ কেজি করে। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা গরীবের চাল নিজেরাই খেয়ে ফেলছে বলে অভিযোগ করেন তারা। 

 

সুবিধাভোগীরা এ সময় আরও জানান, এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

 

চাল কম দেয়ার কথা স্বীকার করে দরগাপাশা ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মনু মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন ৬-৭ কেজি করে বিতরণ করার জন্য। তাই আমরা বিতরণ করছি। এখন ব্যস্ত আছি জানিয়ে সাথে সাথেই কল কেটে দেন ওই ইউপি মেম্বার। 

 

মুঠোফোনে কথা হলে দরগাপাশা ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা হাসান কবির বলেন, আমার সাথে কোন যোগাযোগ না করেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমি চাল কম দেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে বিতরণ বন্ধ রেখেছি। 

 

দরগাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান ছুফি মিয়া বলেন, ওজনে কম দেয়ার কথা আমি বলিনি। যখন জেনেছি তখনই চাল বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছি। 

 

এ ব্যাপারে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার উজ জামান বলেন,  বিষয়টি শুনেছি। ট্যাগ অফিসারকে তদন্ত করতে বলেছি। চাল বিতরণে অনিয়মের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এসকে/জেপি-০২