সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইলশপুর এলাকায় চলমান বন্যায় সিলেট-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের অনেক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ রাস্তা যানবাহনের চাপে আর বন্যার পানির স্রোতে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে গতকাল আবারো পানি বৃদ্ধি পেলে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। ভাঙ্গা সড়কের বড় বড় গর্তে আটকা পড়ে যাচ্ছে ছোট-বড় যানবাহন। এতে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) এ আঞ্চলিক মহাসড়কের ফেঞ্চুগঞ্জ চান্দপুর থেকে ইলাশপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। তীব্র রোদে যানজটে আটকা পড়া অনেক যাত্রী অসুস্থতা বোধ করতে দেখা দিচ্ছে। তবে সড়কের আশপাশে থাকা বসত বাড়ির লোকজন এসব যাত্রীদের পানি এনে দিচ্ছেন।
এদিকে- যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী মহিলা ও বিদেশযাত্রীরা।
ওসমানী হাসপাতালে রোগী দেখতে যাওয়া কুলাউড়ার বাসিন্দা কলিম উদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতালে রোগী দেখতে যাব। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকা আছি। জানি না কোন সময় যানজট নিরসন হবে।’
তিনি জানান, ‘শুনেছি সামনের কোনো এক জায়গার ভাঙ্গায় সিমেন্ট বোঝাই গাড়ি আটকে গেছে।’
মৌসুমি ফসল কাঁঠাল বোঝাই ট্রাক চালক ওসমান আলী বলেন, প্রায় ৪ ঘণ্টা থেকে আটকে আছি। মাঝে মাঝে সুযোগ পেলেও সামনে আটকে যাওয়া ট্রাক দেখে ভাঙ্গা সড়কে গাড়ি নামাতে সাহস পাচ্ছেন না। এখানে মাইক্রো ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা অহরহ আটকে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য যাত্রী মিলে ঠেলে গাড়ি তুলে দিলেও এই সুযোগ নাই বড় গাড়িতে।
এখানে ফেঞ্চুগঞ্জের ট্রাফিকের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক কাজ করলেও জরুরী রোগী পরিবহন গাড়ির সুযোগ পাওয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
কয়েকজন চালক ও স্থানীয়রা বলেন, এখানে সড়কের পাশে বালু ভর্তি ফেলে পানির প্রবাহ প্রতিরোধ করে পরে পুরো সিমেন্টের কিছু বস্তা বিছিয়ে দিলে আপাতত চলাচল ঝুঁকিমুক্ত হতে পারে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এফএ/জেপি-০৪




