ছবি : শাহীন আহমদ
প্রত্যেক কোরবানির ঈদের দিন বিকেল থেকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়ে মাংস বিক্রির হাট বসলেও এবার তা কম। এবার ভয়াবহ বন্যায় নাকাল পুরো সিলেট। তাই এই ঈদুল আযহায় কমেছে পশু কোরবানি দেওয়ার সংখ্যা। এর প্রভাব পড়েছে ঈদের দিনের মাংস বিক্রির হাটেও।
আজ ঈদুল আযহার দিন (রোববার) বিকেলে নগরীর বন্দরবাজার ও আম্বরখানাসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, সামান্য কয়েকজন কোরবানির মাংস বিক্রির করছেন। এসব হাটের বিক্রেতারা হলেন ভিক্ষুক কিংবা অসচ্ছল মানুষ। আর ক্রেতারা হলেন মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন, যারা কোরবানি দিতে পারেননি।
আবার কারও কাছ থেকে চেয়ে নিতে লজ্জায় বাইরে বের হননি- এমন লোকও আছে ক্রেতাদের ভেতর। এছাড়া রয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।
অন্যান্যবার মাংস কেনাবেচার হিড়িক পড়তো নগরীর প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মোড়ে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন।
জানা গেছে, মাংস বিক্রেতারা আজ সারাদিন সিলেট নগরীর বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে কোরবাানির পশুর মাংস সংগ্রহ করেন। বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছেন একদিনের কসাই, যারা কোরবানির পশু কেটেকুটে বকশিস হিসেবে মাংস পেয়েছেন। আবার অনেকেই সচ্ছল আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাওয়া মাংস টাকার প্রয়োজনে বিক্রি করেছেন। এই ভ্রাম্যমাণ মাংসের হাটের ক্রেতারা কম দামে মাংস কিনে নিচ্ছেন।
বিকেল ৪টার দিকে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়- পলিথিনের প্যাকেটে কিংবা খোলা অবস্থায় ভাগ করে পেপারের ওপর মাংসের পসরা সাজিয়ে বিক্রি করেছেন কয়েকজন বিভিন্ন বয়েসি মানুষ। প্রায় দুই কেজি ওজনের এক এক ভাগ মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকায়।
বিক্রেতাদের মধ্য থেকে আসলাম মিয়া নামের একজন জানান, সারাদিন ঘুরে ৪ থেকে ৫ কেজির মতো মাংস সংগ্রহ করেছেন তিনি। কিন্তু এসব মাংস রাখার জায়গা (ফ্রিজ) না থাকায় এবং কিছু টাকা লাভের আশায় সংগ্রহ করা মাংসের একটি অংশ তিনি বিক্রি করে দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, এবার মাংস মিলেছে কম। অন্যান্যবার তিনি ১০-১২ কেজি মাংস সংগ্রহ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, আমি কোরবানি দিতে পারিনি। এছাড়া যারা কোরবানি দেন তারা ঈদের দিন বাসা-বাড়িতে গিয়ে কাউকে কোরবানির মাংস দেন না। শুধু যারা বাসা-বাড়িতে গিয়ে হাত পেতে মাংস চায় কেবল তাদের কয়েক টুকরো মাংস দেয়া হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়ে মাংস আনা সম্ভব না। তাই এখান (আম্বরখানা) থেকে কম দামে কিছু মাংস ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




