ছবি : শাহীন আহমদ

সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও চামড়া ব্যবসায়ী এবং ক্বওমি মাদরাসা ও এতিখানাগুলোর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রধান মৌসুম ঈদুল আযহা। এক দশক আগেও একটি গরুর চামড়া আকারভেদে ১২০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি করা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেই একই চামড়া ৫০০ টাকাতেও বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ফলে, আয় কমেছে ব্যবসায়ী ও মাদরাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষের। 

পরপর কয়েক বছর কাঁচা চামড়ার বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দিলে সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে গত বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৭ টাকা বেশি নির্ধারণ করে। তাতে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি করা গরুর চামড়ার দাম কিছুটা বাড়তি পাওয়ার আশা করছিলেন কোরবানিদাতা, মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত সে আশায় গুড়ে বালি। অনেকটা গতবারের মতোই সিলেটে কম দামে বিক্রি হয়েছে লবণবিহীন গরুর চামড়া।


বিভিন্ন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার (১০ জুলাই) দুপুরের পর ছোট আকারের গরুর চামড়া ২০০–২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৪০০–৪৫০ এবং বড় আকারের গরুর চামড়া ৫০০–৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে অধিকাংশ আড়তদার ছোট আকারের গরুর চামড়া এবং খাসি ও বকরির চামড়া কিনতে অনীহা দেখান। ছোট আকারের গরুর চামড়া কেউ বিক্রি করতে আনলে ১০০ টাকা দামও বলছেন ব্যবসায়ীরা। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গরুর চামড়ার সঙ্গে 'ফ্রি' পাওয়া গেছে। কেই কিনলেও খাসি ও বকরির চামড়া ১০ টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

জানা যায়- বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪৭ থেকে ৫২ টাকা নির্ধারণ করে। ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। এ ছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ও ঢাকায় বকরি ও খাসির চামড়ার দাম একই থাকবে।

গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এ ছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা ও বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার মানে চলতি বছর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৭ টাকা এবং খাসির চামড়ায় ৩ টাকা বাড়তি দাম নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়। কিন্তু সে দামে সিলেটে বিক্রি হয়নি চামড়া।

সিলেটের কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ী জানান, বড় আকারের গরুর চামড়া ৩৫-৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ২১-৩০ এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া ১৬-২০ বর্গফুটের হয়। একেকটি গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে লবণ ও শ্রমিকের মজুরিসহ গড়ে ৩০০ টাকা খরচ হয়। গত বছরের তুলনায় এবার লবণের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় খরচ কিছুটা বেশি পড়ছে।

দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী গেদা মিয়া সিলেটভিউ-কে বলেন, আমি প্রতি বছরই দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জসহ সিলেটের বিভিন্ন এলাকার মাদরাসাগুলোর চামড়া ক্রয় করি। এবার ছোট আকারের গরুর চামড়া ২০০–২৫০ টাকা, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৪০০–৪৫০ এবং বড় আকারের গরুর চামড়া ৫০০–৬০০ টাকায় কিনেছি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার চামড়া কিনেছি এবার। 

ছাগলের চামড়া কেনাবেচা হচ্ছেই না বলে জানালেন ওই ব্যবসায়ী। জানালেন- গরুর চামড়ার সঙ্গে ছাগলের চামড়া মিলছে ‘ফ্রি’।

চামড়ার দাম কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম পড়ে গেছে। ঢাকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- ইউরোপ–আমেরিকার বড় ব্র্যান্ডগুলো আমাদের চামড়া কিনছে না। তা ছাড়া ট্যানারির মালিকেরা বকেয়া টাকা না দেওয়ায় অনেক আড়তদার ও চামড়া ব্যবসায়ী এই ব্যবসা থেকে সরে গেছেন। সব মিলিয়ে চামড়ার ব্যবসায় মন্দা চলছে।’


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম