ভয়াবহ সর্বগ্রাসী বন্যায় ভেসে গেছে খরের গাদা, ডুবে গেছে চারণভূমি। গো খাদ্য অভাবে গবাদিপশু নিয়ে মহা দুঃচিন্তায় সুনামগঞ্জের বানভাসি লোকজন।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে কোনোভাবে দু‘বেলা নিজেদের আহারের সংস্থান হলেও গৃহপালিত এই তৃণভোজী প্রাণীদের অভুক্ত রাখতে হচ্ছে দিনের পর দিন।
জানা যায়, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জের শতভাগ অঞ্চলের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মৎস্য, রাস্তাঘাটের পাশাপাশি প্রাণি সম্পদে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ি সুনামগঞ্জে ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে, গরু, ছাগল মহিষসহ সহ্রাধিক গবাদিপশু মারা গেছে। হাঁস-মুরগিসহ অবকাঠামো খাতের ক্ষতি শত কোটি টাকার হবে বলে জানিছেনে সংশ্লিষ্টার। বন্যার পানিতে গো খাদ্য ভেসে যাওয়ায় ও চারনভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গো খাদ্যে চরম সংকট দেখা দিয়েছে বন্যা কবলিত এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, ধান কাটার পর ধানের খর শুকিয়ে গো খাদ্যের জন্য জমিয়ে রাখেন হাওর পাড়ের মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে চারণভুূমিতে তৃণভোজী প্রাণীদের খাদ্যের সংস্থান হলেও বর্ষায় তা ডুবে যাওয়ায় খরের উপরই ভরসা তাদের। আকস্মিক এই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে সব খরের গাধা। যা আছে দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় তাও পঁচে নষ্ট হয়েগেছে। এখন টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না গো খাদ্য বলে জানিয়েছেন গবাদি পশুর মালিকরা। বাহিরের জেলা থেকে নৌকায় করে খর বিক্রিতে আসলেও মন প্রতি ৭০০-৮০০ টাকা হওয়ায় কিনতে পারছেন না অনেকেই। তাই বাধ্য হয়েছেই গাছের আগা পাতা, পঁচা গলা খর দিয়ে কোনো ভাবে গরু ছাগল বাঁচিয়ে রাখতে হয়েছে তাদের। জরুরী ভিত্তিতে গো খাদ্যের ব্যবস্থা না হলেও অভুক্ত থাকতে থাকতে অনেক গৃহপালিত পশু মারা যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা বীরগাঁও গ্রামের আবু বক্কর বলেন, হাওরের ঢেউ ঘর ভেঙ্গে দিছে। খরের ভোলা ভেসে নিয়ে গেছে বন্যার পানি। এখন ৪ টি গরু আর পরিবার নিয়ে ব্রীজের উপরে আছি।
বেলাল হোসেন বলেন, মানুষকেতো চিড়ামুড়ি দেয়া হচ্ছে। মানুষ কোনোরকম খাবার পাচ্ছে। গরু বা ছাগলের জন্যে কেউ কিছু দিচ্ছে না। এখন গরু ছাগল কি করে বাঁচাবো।
বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ভাবে গো খাদ্য সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়।
জেলা গো খাদ্যের চরম সংকট দেয়ায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৯০০ মে.টন গো খাদ্যের জন্য সরকারের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছন জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মো. আসাদুজ্জামান।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এসএনএ/এসডি-২৩




