ব্রিটিশ-বাংলাদেশি উদ্যোক্তা এবং ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডের প্রবর্তক সিলেটের এনাম আলী এমবিই’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম।

ব্রিটিশ কারি শিল্পের নন্দিত নেতা এনাম আলী এমবিই’র আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত এবং শোকাহত বলে উল্লেখ করেছেন।


এক শোকবার্তায় হাইক‌মিশনার সাইদা মুনা তাসনিম ব‌লেন, ‘এনাম আলী শুধুমাত্র মর্যাদাপূর্ণ ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডের প্রবর্তকই ছিলেন না, তিনি ব্রিটেনের মূলধারায় বাংলাদেশি কারি শিল্পের ব্র্যান্ডিং এবং প্রোফাইলিংয়ের ক্ষেত্রেও অসাধারণ ও অনুসরণীয় ভূমিকা রেখে গেছেন।’

হাইক‌মিশনার ব‌লেন, ‘এনাম আলী তার অনুকরণীয় নেতৃত্ব, অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ, নিবেদিত জনহিতকর কাজ এবং কমিউনিটি সেবার জন্য শুধু ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেই নয়, ব্রিটেনের মূলধারার হসপিটালিটি সেক্টরেও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

সাইদা মুনা তাসনিম আরও ‘ব‌লেন, আমি আশা করি, মরহুম এনাম আলীর জীবন এবং কর্ম তরুণ ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের ব্রিটিশ কারি শিল্পের প্রচারে ও প্রসারে এবং কমিউনিটির সেবায় নেতৃত্ব গ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে। আমি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি ও বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডনের পক্ষ থেকে তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুম আলীর জান্নাতুল ফেরদৌস প্রাপ্তির জন্যও বিশেষভাবে দোয়া প্রার্থনা করছি।’

প্রসঙ্গত, কারি কিং খ্যাত এনাম আলী এমবিই রোববার ভোর রাত ৩টার দিকে যুক্তরাজ্যের সারের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।

এনাম আলী এমবিই ১৯৬০ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ১৯৭৪ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন তিনি।

১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যে নিজের রেস্টুরেন্ট চালু করেন এনাম আলী। ১৯৮৯ সালে ‘লে রোজ’ নামে নান্দনিক শৈলীর একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেন তিনি। এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তারকারাও তাঁর রেস্টুরেন্টে ঢুঁ মারেন। ১৯৯২ সালে এটি ব্রিটিশ ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।

হসপিটালিটি শিল্পে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটেনের রাণী ২০০৮ সালে এনাম আলীকে ‘মেম্বার অব দ্য মোস্ট অ্যাক্সিলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ অ্যাম্পায়ার (এমবিই) পদকে ভূষিত করেন।

তিনি ২০১১ সালে সিটি অব লন্ডন থেকে ‘ফ্রিম্যান’ স্বীকৃতি লাভ করেন। ২০১১ সালে কাউন্টি কাউন্সিল তাকে ‘পার্সোনালিটি অব দ্য ইয়ার’ পদক প্রদান করে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকেও ‘এনআরবি পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন তিনি।

এনাম আলী এমবিই ২০০৫ সালে ব্রিটিশ কারি  অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করেন। পরে এটি কারি অস্কার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মূলত দেশটির প্রধানমন্ত্রী এই পুরস্কারকে ‘কারি অস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ব্রিটেনে এটি অত্যন্ত সম্মানজনক পুরস্কার।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে