সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ তিন উপজেলার চলাচলের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম তামাবিল মহাসড়ক। এই রাস্তা ব্যবহার করে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার মানুষ যাতায়াত করেন। সিলেটের সর্ববৃহৎ তামাবিল স্থলবন্দর থাকায় মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সম্প্রতি সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ঘন ঘন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব বরণ করছেন লোকজন।

 


সচেতন মহলের দাবি- আইন থাকলেও সিলেট তামাবিল মহাসড়কে আইনের নেই সুষ্ঠু ব্যবহার। হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ যেন নিরব দর্শকের ভূমিকায়।

 

সিলেট-তামাবিল, সিলেট-গোয়াইনঘাট ও সিলেট-কানাইঘাট সড়ক যাতায়াতকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বৃহত্তর জৈন্তাপুর তথা উত্তর সিলেটের তিন উপজেলার একমাত্র চলাচলের রাস্তা সিলেট তামাবিল মহাসড়ক। এছাড়া জেলার সর্ববৃহৎ আমদানি-রপতানি স্থলবন্দর তামাবিলে হওয়ায় মহাসড়কটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সম্প্রতি মহাসড়কটি ঘন ঘন ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে যাচ্ছে মানুষের প্রাণ। অনেকে বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

 

এ মহাসড়কে যাতায়াতকারী কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা মারুফ আহমদ বলেন, সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক এখন অঘোষিত মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের আইন থাকলেও এ মহাসড়কে তার সুষ্ঠু প্রয়োগ নেই।

 

জৈন্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম, শোয়েব আহমদ, আব্দুস বলেন, হানিফ আহমদ, রহিম উদ্দিন, ফরিদ আহমদ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার শামিম আহমদ, কুতুব উদ্দিন, সাদ উদ্দিন, মুহিবুর রহমান, নজির হোসেন এবং জাফলং এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন, সুমন মিয়া, আব্দুল মালেক, রিয়াজ উদ্দিনসহ আরও অনেকের সঙ্গে আলাপকালে তারা প্রতিবেদককে জানান, সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বর্তমানে মহাসড়কটিতে লক্কর-ঝক্কর লেগুনা, হিউম্যান হুলার, নাম্বারবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, গ্যাস ও ব্যাটারিচালতি টমটম, ইজিবাইক ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল এবং শিশু-কিশোর বয়েসি অদক্ষ চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

 

তারা আরও বলেন, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে নিরাপত্তা ও যান চলাচলের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সুষ্ঠু তদারকির অভাবে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। শীঘ্রই সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল এবং টমটমের চলাচল ঠেকানো এবং অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

জানা যায়, সর্বশেষ ১৭ ও ১৮ জুলাই সিলেট তামাবিল মহাসড়কে তিনটি পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। এদের মধ্যে কয়েকজনকে পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে হবে। রবিবার (১৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের চিকনাগুল আর্দশ উচ্চবিদ্যালয়ের সম্মুখে নাম্বারবিহীন অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস (নোয়াহ) গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে ৪জন আহত হন। তাদের মধ্যে নুরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

 

সোমবার (১৮ জুলাই) জৈন্তাপুর উপজেলার প্রবেশ গেইট ঘাটেরছটিতে ১ঘন্টার ব্যবধানে দুটি দুর্ঘটনায় ৯ বৎসরের শিশুসহ ৪জন আহত হন। আহত সবাইকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

দুর্ঘটনার বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন, থানাপুলিশ উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে কাজের পাশাপাশি মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায় এবং সংশ্লিষ্ট কাজে সহায়তা করে। তবে মহাসড়কের বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশ দেখে।

 

জৈন্তাপুর ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জেন্ট পার্থ এ বিষয়ে বলেন, ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

 

তিনি আরও বলেন, অভিবাবক ও গাড়ির মালিকরাও সচেতন হতে হবে। তারা যেন অল্প বয়েসিদের হাতে গাড়িরর স্টিয়ারিং তুলে না দেন।

 

তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (ওসি) পরিমল চন্দ্র দেব বলেন, নাম্বারবিহীন টোকন পরিচালিত সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। তামাবিল মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের কোনো প্রকার টোকেনবাণিজ্য নেই। কেউ আমাদের নাম ভেঙে টোকেনবাণিজ্য করলে তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন- আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা রোধে আমরা নিয়মিত সর্তকবার্তা জানিয়ে আসছি। এক শ্রেণির মালিক ও চালক অর্থের লোভে ট্রাফিক আইন মানছেন না। আমরা তাদের বিরুদ্ধে সোচ্ছার আছি।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / সাব্বির / ডি.আর/ এসডি-২৬