সম্প্রীতি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশে সম্প্রীতি বিনষ্ট করা হয়েছে। এরপর থেকেই আমাদের সম্প্রীতি হারিয়ে গেছে। দিনে দিনে পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে। শুধু ধর্মীয় সম্প্রীতি নয়, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি নেই, ঘরে-ঘরে সম্প্রীতি নেই। একটি পক্ষ ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে অসাম্পাদায়িক চেতনার বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার দাবানল ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এদেরকে প্রতিহত করে করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে হবে। 

শুক্রবার (২২ জুলাই) রাতে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘সম্প্রীতি ও সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।


বক্তারা বলেন, দেশে সর্ববৃহৎ পদ্মাসেতু হয়েছে। এ সেতুর মাধ্যমে অসংখ্য জেলার সথে সেতুবন্ধন হয়েেেছ। কিন্তু  আজ মানুষে মানুষে সম্প্রীতির সেতু ভেঙে পড়েছে। এ সুযোগে চক্রান্তকারীরা মাথাছাড়া দিয়ে ওঠছে। ধর্মের নামে রাজনীতি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। 

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল ক্ষমতায়। অথচ এখনও ধর্ম যার যার উৎসব সবার এ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে হয়। এই ক্রান্তিলগ্নে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। 

বক্তারা আরও বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হলেও মানসিকভাবে আমরা এখনও পিছিয়ে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়া দেশে সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে কথা বলতে কষ্ট হয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি সম্প্রীতি নিয়ে অথচ এখন সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ করতে হচ্ছে। আমরা ধর্ম নিয়ে আঘাত চাই না। একটি সুন্দর অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ চাই। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. স্বপ্নীল বলেন, দিন দিন সম্প্রীতির মেলবন্ধন থেকে আমরা সরে যাচ্ছি। এখন ধর্মীয় সম্প্রতি আলোচনায় আসলেও মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বিষয়টি আড়ালে। প্রতিটি ঘর থেকে সম্প্রীতি গড়তে হবে। মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়াতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, সম্প্রীতি নিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলা সময় এখন। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন; তখন একটি পক্ষ ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে দেশকে বিভান্তি ছড়াচ্ছে। দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। 

সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আল আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ছামির মাহমুদের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, জালালাবাদ লিভার ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মঈন উদ্দিন মঞ্জু, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমেদ মিশু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ আশরাফুল আলম নাসির, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত শাহ ফরিদী, জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মঈন উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রাসেল, ক্লাবের সদস্য, ইউএনবি’র সিলেট প্রতিনিধি মোহাম্মদ মহসিন, সহযোগী সদস্য এনটিভি ইউরোপের সিলেট প্রতিনিধি সাজলু লস্কর। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের কোষাধক্ষ মিসবাহ উদ্দীন আহমদ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুলতান সুমন, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল মোহাম্মদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মিঠু দাস জয়, সিলেট উইমেন্স জার্নালিস্ট ক্লাবের উপদেষ্টা হাসিনা বেগম চৌধুরী, সিলেট উইমেন্স জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুবর্ণা হামিদ, ক্লাব সদস্য সাদিকুর রহমান সাকী, শফিকুর রহমান চৌধুরী, রবি কিরণ সিংহ, নুরুল ইসলাম, ইয়াহইয়া মারুফ, আশরাফ চৌধুরী রাজু, রনজিত কুমার সিংহ, মোহাম্মদ শফিকুল ইসিলাম, এমআর টুনু তালুকদার, অমিতা সিনহা, বাপ্পা মৈত্র, মোকলেছুর রহমান, রাজীব রাসেল, আহমেদ জামিল, মুহাজিরুল ইসলাম রাত ও আহমেদ শাহীন প্রমুখ। 

সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডি.আর