২০২০ সালের এপ্রিলে সিলেটে করোনা শনাক্তের পর বিভাগীয় নগরীর শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার ঘোষণা করে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। গত দুবছর থেকে ১০০ শয্যার এ হাসপাতাল সিলেট বিভাগের করোনা রোগীদের ভরসার স্থল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ১৪টির মধ্যে ১০টি এয়ার কন্ডিশন (এসি) নষ্ট ছিলো। এতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে ছিলেন রোগী ও হাসপাতালে কর্মরতরা। এ বিষয়ে গত ১৪ জুলাই সিলেটের শীর্ষ জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘সিলেটভিউ’-এ ‘শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউতে ১০টি এসি নষ্ট, মিলছে না বরাদ্দ!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট গণমাধ্যম এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। এসবে টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। মেরামত করা হয় নষ্ট এসিগুলো। এছাড়াও এক সপ্তাহ নষ্ট থাকা হাসপাতালের ট্রান্সমিটারও মেরামত করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। এতে ভােগান্তি কমেছে রােগী ও চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের।
জানা যায়, সিলেটের একমাত্র করােনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে ১৪টি এসি রয়েছে। তবে গত ৬ মাস ধরে ১০টি এসি নষ্ট ছিলো। এ বিষয়ে ৫ মাস আগে এসিগুলো মেরামত করতে স্বাস্থ্য প্রকৌশলকে একাধিবার চিঠি দেওয়া হলেও মেরামত করা হচ্ছিল না।
অপরদিকে, গত ১৪ জুলাই হাসপাতালের একমাত্র ট্রান্সমিটার নষ্ট হয়ে যায়। বিকল্প লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও বারবার বিদ্যুৎ সংযােগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। ফলে করোনাসহ বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটছিলো। বিষয়গুলো জানতে পেরে ‘সিলেটভিউ’-এ ‘শামসুদ্দিন হাসপাতালের ট্রান্সফরমার নষ্ট, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত’ এবং ‘শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউতে ১০টি এসি নষ্ট, মিলছে না বরাদ্দ!’ শিরোনামে পৃথক দুটি নিউজ প্রকাশিত হয়। এরপর জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন অনলাইন এবং প্রিন্ট গণমাধ্যম এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। ফলে টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
সংবাদ প্রকাশের সময় সিলেটভিউ-কে দেওয়া বক্তব্যে শামসুদ্দিন হাসপাতালের অধীক্ষক এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেছিলেন, ৫ মাস আগে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু বাজেট না থাকার অজুহাতে গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালের এসিগুলো মেরামত করা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেছিলেন, শুধু এসি নষ্ট এমন না- হাসপাতালটিতে অনেক সমস্যা আছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পানি পড়ে। একটি হাসপাতালের সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তার উপর এটি বিভাগের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল। হাসপাতালে কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট অত্যন্ত উন্নতমানের। এখানের এসিতে হেপা ফিল্টার বসানাে রয়েছে। এই ফিল্টারের মাধ্যমে বাইরে থেকে বাতাস প্রবেশ করে এবং ভেতরের বাতাস বাইরে চলে যায়। যার ফলে চিকিৎসক ও রােগীর স্বজনদের করােনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। কিন্তু বেশিরভাগ এসি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটি ঠিকমতাে কাজ করছিল না। তবে গত সপ্তাহে নষ্ট এসিগুলো মেরামত করা হয়েছে। এছাড়াও গত শুক্রবার হাসপাতালের ট্রান্সমিটারও মেরামত করে লাগানাে হয়েছে। ট্রান্সমিটার সচল হওয়ায় হাসপাতালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। এতে সেবা নিতে আসা রােগী, রােগীর স্বজন ও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাে. মিজানুর রহমান রবিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটভিউ-কে বলেন, সর্ব প্রথম সংবাদটি প্রকাশ করায় সিলেটভিউ-কে ধন্যবাদ। শুক্রবার ট্রান্সফরমার মেরাম করে বসানাে হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। আর ৩ দিন আগে আইসিইউর সব এসি মেরামত করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল।
তিনি আরও বলেন, নতুন একটি ট্রান্সফরমারের চাহিদাপত্র ঢাকায় পাঠানাে হয়েছে। কারণ হাসপাতালের জন্য বিকল্প ট্রান্সফরমার খুবই জরুরি। যাতে একটি নষ্ট হলেও অন্যটি দিয়ে কাজ চালানাে যাবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




