সম্প্রতি দুই দফা বন্যার কবলে পড়েছেন সিলেট। রেহাই পায়নি মহানগরীও। দুই দফা বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠার আগেই ভারী বর্ষণে ফের সিলেট নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে সিটি করপােরেশনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালােচনা করেন অনেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই সংবাদ সম্মেলন ডেকে জলাবদ্ধতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
জলাবদ্ধতার জন্য নগরীর নর্দমা, নালা, খাল ও ছড়াগুলোতে প্রতিনিয়ত জিনিসপত্র ফেলে দেওয়াকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন সিসিক মেয়র। এসময় তিনি নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান।
মেয়র আরিফের কথার সত্যতাই ফুটে উঠলো গত কয়েকদিনের চিত্রে। মহানগরীর জলাবদ্ধ এলাকা চিহ্নিত করে গত শনিবার থেকে ১৫টি ওয়ার্ড ও ৪টি এলাকায় ১৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে ছড়া ও খালগুলো পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে সিসিক। কর্মীরা ছড়া-খাল পরিচ্ছন্ন করতে গিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম হচ্ছেন। কারণ- ছড়া-খাল থেকে বেরিয়ে আসছে স্কুল ব্যাগ, লেপ-তোষকসহ বাসাবাড়ির অসংখ্য জিনিসপত্র। এছাড়াও প্লাস্টিকের বোতলে ভরপুর ছড়া-নালাগুলো।
সিসিক সূত্র জানায়, মহানগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১টি এক্সকাভেটরসহ ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১০ জন পরিচ্ছনতাকর্মী, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ৫জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১টি এক্সকাভেটরসহ ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডেও এক্সকাভেটরসহ একই পরিমাণ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ২২, ২৫ও২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১জন করে সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১০ জন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নর্দমা, নালা, খাল ও ছড়া পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন।
অপরদিকে ভােলানন্দ স্কুলের অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্নতাকাজে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গাভীরখাল ও বাগবাড়ি ছড়া পরিচ্ছন্নতাকাজে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নাইওরপুল থেকে কুমারপাড়া সড়কে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও দর্শনদেউড়ি পুলের নিচ পরিচ্ছন্নতাকাজে ১ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১০ জনপরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন।
সিটি করপােরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান সিলেটভিউ-কে জানান, মহানগরী এলাকায় জলাবদ্ধতা অনুসন্ধান করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজে নামানাে হয়েছে। মূলত বন্যায় ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা নগরীর অভ্যন্তরের বিভিন্ন নালা, নর্দমা ও খালে পড়ে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দুই দফা বন্যায় অনেকেই বাসাবাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং ময়লা-আবর্জনা বন্যার পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। আবার কোথাও কোথাও বন্যার পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়া কাথা-কম্বলও ভাসিয়ে দিয়েছেন। এতে নগরীর নালা-নর্দমাগুলাের পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। এগুলাে অপসারণ করতে কাজে নামানাে হয়েছে দেড় শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। আশা করছি- এগুলো পরিচ্ছন্ন করা হয়ে গেলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




