সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড। এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের জন্য দক্ষিণ সুরমার সকল সড়কে দিন-রাত লেগে থাকে যানজট। সবথেকে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় কিন ব্রিজের দক্ষিণমুখে। এখানে পুরোটা রাস্তাজুড়েই সারাদিন অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলেন চালকরা। অভিযোগ রয়েছে- ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করেই এমনটি করা হয়। 

দেখা গেছে- দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বর, কদমতলী মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, ওভারব্রিজ এলাকায় যত্রতত্র গড়ে তোলা হয়েছে সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড। শুধুমাত্র ওভারব্রিজের মুখেই রয়েছে প্রায় ৫টি অটোরিকশা স্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ডগুলো হতে রেজিস্ট্রেশনযুক্ত অটোরিকশার পাশাপাশি অনেক রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশাও চলাচল করে। 


অপরদিকে কিন ব্রিজের দক্ষিণমুখে অটোরিকশাগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কোনো বাধা ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছেমতো দাঁড় করিয়ে রেখে যাত্রী উত্তোলন করেন চালকরা। যদিও পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে ট্রাফিক পুলিশ। 

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়য়ী- এসব সিএনজি অটোরিকশা থেকে ট্রাফিক পুলিশ উৎকোচ গ্রহণ করায় ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনেই চালকরা নিজের ইচ্ছেমত যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা করেন। তাই ট্রাফিক পুলিশ এসব না দেখার ভান করে। 

পুরো রাস্তায় এলোপাতাড়ি অটোরিকশা রাখার ফলে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কিনব্রিজের দক্ষিণমুখের ৩টি রাস্তায়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে থাকে তীব্র যানজট। এসময় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসহ জরুরিসেবার গাড়িগুলো আটকে থাকে জ্যামে। 

এ বিষয়ে ওভারব্রিজ, কদমতলি পয়েন্ট ও হুমায়ুন রশিদ চত্বর এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. সুমন জাহিদ সিলেটভিউ-কে মুঠোফোনে বলেন, যানজট নিরসনের জন্য আমরা নিয়মিত যথাযথ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। রং পার্কিংয়ের জন্য আমরা প্রতিদিনই গাড়ি রেকার করি। কিন্তু রেকার করার পরই সিএনজি অটোরিকশার চালকরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে চায়। তারপরেও আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে অটল রয়েছি। 

এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমার কিনব্রিজ, বাবনা পয়েন্ট, পুরাতন রেল স্টেশন ও চন্ডিপুল পয়েন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিআই মশিউর রহমান সিলেটভিউ-কে জানান, কিনব্রিজের মুখে এলোপাতাড়িভাবে সিএনজি অটোরিকশা রাখলেই আমরা অ্যাকশনে যাই। সারি বেঁধে গাড়ি রাখতে চালকদের বলি। তবু আমরা বিষয়টির দিকে আরও বেশি নজর দিবো।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / সোয়েব / ডি.আর