নেপালের ব্যবসায়ী ও রপ্তানীকারক আন্দ্রেয়াস খংস ও ভারতের রিপন মন্ডল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। সফরকালে সিলেট ঘুরতে এসে নিজের লাগেজ হারিয়ে যখন প্রচন্ড হতাশায় হাবুডুবু খাচ্ছিলেন, তখনই ত্রাণকর্তা হিসাবে আবির্ভুত হন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ সিলেটের সদস্য এক অটোচালক ও মালিক।

তার সততায় মুগ্ধ নেপাল ও ভারতের ব্যবসায়ী যেমন নিজেদের হারানো জিনিসপত্র ফেরত পেয়েছেন, তেমনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সততার উদাহরণও দেখলেন নিজেদের চোখে।
সম্প্রতি, সিলেটের কদমতলী বাসস্টেশন থেকে জিন্দাবাজারের নির্ধারিত হোটেলে যাওয়ার পথে ফোনে ব্যস্ত ছিলেন নেপালের ব্যবসায়ী আন্দ্রেয়াস খংস ও ভারতের রিপন মন্ডল।
হোটেলের সামনে নেমে কথা বলতে বলতে ভাড়া মিটিয়ে তারা চলে গিয়েছিলেন নিজেদের কক্ষে।কথা শেষে হঠাৎ খেয়াল করেন গাড়ী থেকে ব্যাগ না নিয়েই চলে এসেছেন তারা।দৌড়ে নিচে এসে দেখেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি আর সেখানে নেই।তাদের ব্যাগে ছিল পাসপোর্টসহ অতিজরুরী  কাগজপত্র এবং মূল্যবান জিনিসপত্র।কিছু খুঁচরো ডলার এবং রূপিও ছিল।


এসব জরুরী জিনিসপত্র হারিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন তারা।হতাশায় হাবুডুবু খেতে শুরু করেছিলেন দু'জনই। রাজ্যের দুশ্চিন্তা নিয়ে হোটেলের সামনে পায়চারি করছিলেন ভারত ও নেপালের এ দুই ব্যবসায়ী।

হঠাৎ সিএনজিচালিত অটোচালক ও মালিক ফিরে আসেন সেই হোটেলের সামনে।মৃদু হেসে তিনি বলেন, আমিও দেখিনি।ব্যাগ যখন দেখেছি তখনই চলে এসেছি। 
ব্যাগ ফেরত পেয়ে যেনো হাতে আসমান ফিরে পেলেন ভারত ও নেপালের দুই নাগরিক। অটোচালক রাকিবুল হাসানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
অটোচালক রাকিবের সততায় মুগ্ধ হয়ে তারা তাকে কিছু উপহার দিতে চেয়েছিলেন।রাকিব সবিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।পরে তারা তাকে নিয়ে সিলেটে ঘোরাঘুরি করেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেন,এবার বাংলাদেশ সফরে এসে রাকিবের মতো একজন সৎ মানুষের সাক্ষাত পেলাম। আমাদের অনেক মূল্যবান ডকুমেন্ট ছিল।ছিলো কিছু ডলার এবং রূপি। আমরা সবকিছু যেমন রেখেছিলাম তেমনই ফেরত পেয়েছি।রাকিবের মতো সৎ মানুষ আছেন বলে দুনিয়াটা এখনো এত সুন্দর।আমরা তাকে সম্মাণ জানাই।

সিলেটভিউ২৪ডটকম / ইদ্রিছ