সিলেট মহানগরীকে দুভাগ করা ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ। দেশের পূর্বাঞ্চলের ঐহিত্যবাহী কয়েকটি স্থাপনার মধ্যে এটি অন্যতম।

ব্রিটিশ আমলে তৈরিকৃত এ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন ও লোকজন চলাচল করছেন। তাদের চলাচলকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা ব্রিজে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। ব্রিজের তিনভাগের একভাগও তাদের দখলে নিয়ে যাওয়ায় ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতকারীরা পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। ফলে যানজট লেগে থাকে। যানজটের কারণে নানান সময় মানুষজন ভোগান্তির শিকার হন। তবে ট্রাফিক পুলিশ বলছে- আমরা তো ব্রিজ থেকে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করতে পারি না। আমাদের বাধ্যবাধকতা আছে। এটি সিটি, ফাঁড়ি ও থানা দেখে। তবে সিসিক মুখপাত্র বলছেন- সড়ক বা ব্রিজে হকার বসা অন্যায়। ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করতে সিসিক কাজ করছে। এটি চলমান প্রক্রিয়া।


সোমবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩ টায় কিনব্রিজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- ব্রিজের এক পাশ থেকে অন্যপাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক ভ্রাম্যমাণ হকার ও সিজনাল ব্যবসায়ী বসে রয়েছেন। মাছ থেকে শুরু করে পান-সুপারি, পোশাক, শুটকি, নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল, জুতা, সাতকড়া, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ও মোবাইল এক্সসারিজসহ নানান পণ্যের দোকান বসে আছে ক্লিন ব্রিজে। ফলে ৩৫০.৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৫.৪ মিটার প্রস্থের সেতু দিয়ে যাতায়াতকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কিছুক্ষণ পরপরই এ সেতুতে যানজট লেগে থাকে। যানজট নিরসনে সিলেট মহানগর ট্রাফিক পুলিশ কিন ব্রিজের সুরমা মার্কেটের পাশ থেকে বেলা ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল ব্যতীত কোনো ধরনের যান্ত্রিক বাহন চলতে দিচ্ছে না। ফলে মানুষজন বিকল্প রাস্তায় যেতে হচ্ছে। এ কারণে বাড়তি টাকাও গুনতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণের। বেলা ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ পাশ দিয়ে যানবাহন পারাপার হতে না পারায় কাজিরবাজার ব্রিজ দিয়ে যেতে হচ্ছে।

মাহিদুল ইসলাম তারেক নামের একজন বলেন- ব্রিজ পারাপার হবো। কিন্তু এ ব্রিজ দিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা যেতে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। সময় স্বল্পতায় আমি গাড়ী থেকে নেমে হেটে ব্রিজ পার হচ্ছি। অথচ ব্রিজ দখল করে আছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। এদের উচ্ছেদ করতে পারছে না। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

সায়মা নামের আরেক পথচারী বলেন- ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। সারা ব্রিজে দোকান আর দোকান। এদের উচ্ছেদ করে আমাদের যাতায়াতের পথ সুগম করা হোক।

এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের বিপুল নামের এক সদস্য বলেন- আমাদের কাজ সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করে রাখা। আমরা যানবাহন নিয়ে কাজ করি। তবে ব্রিজে যেসব হকার রয়েছে তাদের সরানোর দায়িত্ব তো আমাদের নয়। এ বিষয়ে সিটি, থানা ও ফাঁড়ি দেখবে। তবে আমাদের নির্দেশ দেয়া হলে আমারও কাজ করবো।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) আব্দুল আলিম শাহ সিলেটভিউ-কে বলেন- সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এটি চলমান প্রক্রিয়া। ধীরে ধীরে সিলেটের সবকয়টি সড়ক ও ফুটপাত হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / মুন্না / ডি.আর