জ্বালানি সাশ্রয়ে বিকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সকল ফিলিং স্টেশনে গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সেটি মানছে না সিলেটের দক্ষিণ সুরমার গ্যাস পাম্প ‘এলাহী সি.এন.জি ফিলিং এন্ড কনভার্শন’।
প্রতিদিন এই নিষিদ্ধ সময়ে অটোরিকশাসহ সকল ধরনের গাড়িতে গ্যাস বিক্রি করতে দেখা যায় ‘এলাহী সি.এন.জি ফিলিং এন্ড কনভার্শন’ কর্তৃপক্ষকে। এ বিষয়ে কোনো তদারিক নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। প্রতিদিনের মতো সোমবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকেও বিভিন্ন গাড়িতে গ্যাস বিক্রি করতে দেখা যায় ওই ফিলিং স্টেশনে। দৃশ্যটি এ সময় মুঠোফোনে ধারণ করেন এ প্রতিবেদক।
এদিকে, সিলেটের সকল পাম্প বা ফিলিং স্টেশন ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ থাকলেও দক্ষিণ সুরমার ‘এলাহী সি.এন.জি ফিলিং এন্ড কনভার্শন’ গাড়িতে গ্যাস বিক্রি করায় অন্যান্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পার্শ্ববর্তী এক সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন- কী আর বলবো ভাই। ওই পাম্পের মালিক নাকি অনেক প্রভাবশালী। তাই তাঁর পাম্পে নিষিদ্ধ সময়েও গ্যাস বিক্রি করা হয়।
এ বিষয়ে ‘এলাহী সি.এন.জি ফিলিং এন্ড কনভার্শন’র মালিক কামাল উদ্দিন সিলেটভিউ-কে বলেন- অভিযোগটি আসলে সত্য নয়।
এ প্রতিবেদকের কাছে প্রমাণ আছে এমন কথার জবাবে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন- আসলে মাঝে-মধ্যে ভিআইপি কারো রিকুয়েস্টে দু-একটা গাড়িতে ওই সময়ে (নিষিদ্ধ সময়ে) গ্যাস বিক্রি করতে হয়। আর ৬টার সময় বন্ধ করতে করতে হয়তো ১৫-২০ মিনিট দেরি হয়ে যায়। আবার ১১টার কিছু আগে পাম্প খুলে দেওয়া হয়।
কামাল উদ্দিন এসময় এ প্রতিবেদককে তার পাম্পে চায়ের দাওয়াত দিয়ে বলেন- ফোনে আসলে এত কথা বলা যায় না। আপনি একবার আসলে সরাসরি কথা বলতে পারতাম।
এ বিষয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন’র সিলেট বিভাগের সহসভাপতি সাজুওয়ান আহমদ আহমদ সিলেটভিউ-কে বলেন- ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। তবে এই পাম্পের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগেও ছিলো। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তারা এ বিষয়ে নিরব।
এ প্রসঙ্গে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান সিলেটভিউ-কে বলেন- বিষয়টি দেখার দায়িত্ব জালালাবাদ গ্যাসের। তারা যদি অভিযানের ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা চায় তবে আমরা দিতে প্রস্তুত। তারপরও এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পেট্রোবাংলার কোম্পানি ‘জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিসন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শোয়েব আহমেদ মতিন সিলেটভিউ-কে বলেন- আমাদের জনবল কম। তাই সব ফিলিং স্টেশনে তদারিক করা সম্ভব হয় না। এই বিষয়টি আমাদের জানা ছিলো না। আমি দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




