সিলেটের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (একডো) ও খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন এর যৌথ উদ্যোগে সিলেট শহরের একডো কার্যালয়ে ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। 


দিবসটি উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ঐতিহ্যগত বিদ্যা সংরক্ষণ ও বিকাশে আাদিবাসী নারী সমাজের ভূমিকা’। একডো’র নির্বাহী পরিচালক লক্ষীকান্ত সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও সমাজকর্ম বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. ফয়সল আহম্মদ। 



আলোচনা সভার শুরুতেই একডো’র নির্বাহী পরিচালক লক্ষীকান্ত সিংহের স্বাগত বক্তব্যের পর একডো’র সমন্বয়কারী নোংপকলৈ সিনহা দিবসটির প্রতিপাদ্যের উপর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি তার প্রতিবেদনে মনিপুরী, খাসি, পাত্র, চা-শ্রমিকসহ অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারীরা সুদুর অতীতকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কিভাবে তাদের নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি কিভাবে এগুলোর বিকাশের জন্য কাজ করছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তার এই প্রতিবেদনের পর মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন ট্রাইবেল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন জৈন্তা শাখার সভাপতি ক্লেমেন্ট চিসিম বর্ষা, খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন এর সভাপতি আলিজ্যাক, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন সিলেট এর সভাপতি যোসেফ হাউই, বাংলাদেশ মনিপুরী সাহিত্য সংসদের সাধারন সম্পাদক নামব্রম শংকর সিংহ, আদিবাসী মানবাধিকার কর্মী মিলন উরাং, শিপা উরাং, নৃপেন্দ্র সিংহ প্রমুখ।


উপস্থিত বক্তারা অতি সম্প্রতি সরকার কর্তৃক দেশের সুশীল সমাজ এবং মিডিয়াদের নিকট এবারের আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সকল অনুষ্ঠান এবং এ সংক্রান্ত আলোচনায় ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার থেকে বিরত থেকে ‘সংবিধানসম্মত শব্দ চয়ন’ এর যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানান। 


তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে এদেশের প্রতিটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজেদের আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দেয়ার অধিকার রয়েছে। এবং তাঁদের এ পরিচয় নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য রাষ্ট্র আজ এদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। তাই এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল বক্তারাই অবিলম্বে এদেশের আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং দেশে আদিবাসী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করার জোর দাবি জানান। তাছাড়া আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ি দেশের সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় দ্রুত প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় চালুসহ কোভিড পরবর্তী এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতীতে দরিদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভোগান্তি দুর করার জন্য সরকারকে একটি বিশেষ সহযোগিতার স্কিম চালু করার দাবি জানান। 


উল্লেখ্য যে, এ সভায় স্থানীয় খাসি, গারো, মনিপুরী, চা-শ্রমিকসহ প্রায় সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।  

সিলেটভিউ২৪ডটকম/সবি/ইআ