নূন্যতম ৩০০ টাকা মজুরীসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া পূরণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২য় দিনে ২ ঘন্টা কর্মবিরতী পালন করেছে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার চা বাগানের শ্রমিকরা।

 


বুধবার সকাল ৯ টা হতে ১১ টা পর্যন্ত উপজেলার ১৬টি চা বাগানের শ্রমিকরা স্ব স্ব বাগানে এ কর্মবিরতী পালন করে। এ সময় বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকরা পথ সভা করে বক্তব্য রাখেন।

 

সরেজমিনে সোনারুপা চা বাগানের ডিভিশন পুচি চা বাগান বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মতি রুদ্রপাল বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ৩০০ টাকা মজুরীর জন্য আমরা আন্দোলন করে আসছি। মজুরী বোর্ড বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মানুষ হিসেবে বেচেঁ থাকার জন্য আমাদের এ আন্দোলন।১২০ টাকা থেকে ১৪ টাকা আমাদের হাজিরা বৃদ্ধি করার  প্রস্তাব আনা হয়েছিল, যা দিয়ে কোন শ্রমিকের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো অসম্ভব।

 

চা শ্রমিক রিনা রুদ্রপাল, স্যাম সুন্দর চৌহান, খুলশী কর্মী বলেন, আমাদের রাস্তার বেহাল দশা, সপ্তাহে একদিন হাসপাতালে গেলে সারাদিন লাগে ডাক্তার দেখাতে, তা ও আবার সব রোগের জন্য একটি প্যারাসিটাল একটা এন্টাসিড দেয়। আমাদের বসবাসের ঘরগুলো ও অনুপযুক্ত।

 

ধামাই চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি যাদব রুদ্র পাল এর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন লাচানা নাইডু, মানিক লাল দেসোহারা, প্রসন্ন বাউরী, রঞ্জন কুমার চাষা, নিরঞ্জন সরদার, সত্যনারায়ণ সরদার, উত্তম রবিদাস, বসু রুদ্র পাল প্রমূখ।

 

অন্যদিকে রতনা চা বাগান কারখানার সামনে কর্মবিরতি পালন করছেন রতনা ও এলাপুর চা বাগানের শ্রমিকরা।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন রতনা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি সুমন ঘোষ, সহ-সভাপতি অন্জনা রাজগড়, খলিলুর রহমান, সাধারন সম্পাদক পরিমল বুনার্জী, এলাপুর চা বাগানের সভাপতি চন্দন চাষা, সহ-সভাপতি ছবিলাল সর্দার প্রমুখ।

 

রতনা চা বাগানের ব্যবস্থাপক তারেক আহমদ চৌধুরী বলেন, এখানে প্রায় ৭৫০ জন শ্রমিক শান্তিপূর্ণ ভাবে অবস্থান কর্মসূচীর মাধ্যমে কর্মবিরতী করছে।

 

সোনারুপা চা বাগানের ব্যবস্থাপক নাহিদ ফেরদৌস চৌধুরী জানান, চা শ্রমিকের দাবি দাওয়ার জন্য চা সংসদের প্রতিনিধিরা চা বোর্ডের সাথে বসে আলোচনা করেন। বাগানে কর্মবিরতী করতে হলে বোর্ড লিখিতভাবে আমাদের অবগত করে, এ বাগানে লিখিত কোন কাগজ পাইনি। চা শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ ভাবে এ কর্মসূচি পালনের জন্য মৌখিকভাবে আমাকে অবগত করেছে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএএল/এসডি-০৭