প্রতিযোগিতায় সেরা হাফেজ বিজয়ী হয়ে পেয়েছেন শুধু ডামি চেক। জোটেনি প্রতিশ্রুত অর্থ এবং কক্সবাজারসহ বিদেশ ট্যুর। ‘সেরা হাফেজ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে পাওয়া গেছে এমন ন্যাক্কারজনক প্রতারণার অভিযোগ। অভিযোগের বিষয়টি স্বীকারও করে নিয়েছেন প্রতিযোগিতার আয়োজকরা।
জানা গেছে, শুধু এ বছর নয়, ২০১৯ এবং ২১ সালের বিজয়ীদেরও পুরস্কারের টাকা দেয়নি সেরা হাফেজ ফাউন্ডেশন নামের প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলো সিলেট বিভাগের শিক্ষার্থীও। অভিযোগ স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মুফতি আব্দুল্লাহ এলাহীও।
রাজধানীর ভাটারার ইদারাতুল মা’আরিফ মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে ঝুলছে ৫০ হাজার টাকার ডামি চেক। সেরা হাফেজ প্রতিযোগিতা ২০২২- এ তার প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নিয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করে এই পুরস্কার অর্জন করেন মোহাম্মদ হোসাইন। গত রমজান মাসে এই পুরস্কার জিতলেও এখনও বুঝে পাননি অর্থমূল্য।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ মনজুরুল হক বলেন, আলেম নামে লেবাস পরে যে ধোকা দেয়া হচ্ছে, তা কাঙ্ক্ষিত না। ভবিষ্যতে যাতে এমনটা না করে, কোমলমতি বাচ্চারা যাতে তাদের প্রাপ্যটা পেয়ে যায়, সেটাই চাই।
পুরস্কার বিজয়ী হোসাইন জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় রাউণ্ড শেষ করে তাকে আরও ৬টি ধাপ পেরিয়ে অর্জন করতে হয়েছিল পুরস্কারটি। পুরস্কারের টাকা এবং কক্সবাজার ট্যুর কোনোটিই জোটেনি তার।
তিনি বলেন, পঞ্চম স্থান অর্জন করার পর আমাকে বলা হয় যে ৫০ হাজার টাকা এবং কক্সবাজার ট্যুর দেয়া হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনোটিই দেয়া হয়নি। জোর দাবি জানাই, আমাকে যেন এ পুরস্কার বুঝিয়ে দেয়া হয়।
হোসাইনের বাবা জানান, আয়োজক প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।
গত কয়েক বছর ধরেই বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে রমজান মাসে সেরা হাফেজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে সেরা হাফেজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯, ২১ এবং ২২ সালে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যারা প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন, তাদের কেউ এখনও পুরস্কারের অর্থমূল্য পাননি।
সেরা হাফেজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতি আব্দুল্লাহ এলাহী। অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, স্পন্সর না থাকায় পুরস্কারের টাকা দেয়া সম্ভব হয়নি।
তবে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসাইন মাহমুদ জানালেন ভিন্ন তথ্য। সেরা হাফেজ প্রতিযোগিতায় জামায়াত-শিবিরের লোকজন থাকার কারণেই নাকি অনুষ্ঠানটি সফল হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গত তিন বছরের পুরস্কার দেয়ার পর ২০২৩ সালে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / সময় টিভি / ডালিম




