পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, “যে ইস্যু নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে সে বিষয়টি আমি বলিনি, তার ধারে কাছেও আমি নেই। শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে, ভারতে গিয়ে এমন কথা আমি বলিনি। এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা। নির্বাচন নিয়েও আমি কোনো কথা বলিনি। রিজিওনাল স্যাবেলিটি নিয়ে আলাপ হয়েছে।”

 


সোমবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, “চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানটি ছিল জন্মাষ্টমী উপলক্ষে। আমি বলেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত কমপ্রেহেনসিভ ও অপূর্ব বক্তব্যের পর আমার বক্তব্য দেয়ার প্রয়োজন নেই। তারা তখন কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে আমি বল্লাম, আমি গৌহাটিতে গিয়েছিলাম এবং সেখানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এজন্য যে, সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ হওয়ায় আসামে স্থিতিশীলতা এসেছে এবং অনেক অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। সুতরাং আমি ভারত সরকারকে বলেছি যে, উভয় দেশের মঙ্গলের জন্য, উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন।  সেজন্য উভয় দেশে কোনো ধরণের সাম্প্রদায়িক ইসুকে ফুলায়ে ফালায়ে প্রচার করে স্থিতিশীলতা যাতে বিঘ্ন না করা হয়। ভারতে সাম্প্রদায়িক সমস্যা দেখা দিলে এটা আমাদের দেশকেও আঘাত দেয়। আমি বলেছি শেখ হাসিনা স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের প্রতীক। শেখ হাসিনা থাকলে অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠবে। সুতরাং তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার তা করার জন্য বলেছি। বন্ধু প্রতিম দেশ হিসাবে তাদের সহায়তা চেয়েছি।”

 

প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম নগরীর জেএমসেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের নয়াদিল্লিতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি দেশটিতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।

 

সেদিনের ওই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে। এমনকি আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা তার এই বক্তব্যকে সরকার বা দলের নয় ব্যক্তিগত বলে অভিমত দেন।

 

এদিকে ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য দিয়ে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে রোববার (২১ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে এক আইনজীবির পক্ষথেকে। নোটিশে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/নাজাত/এসডি-২৩