মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ১১ তম দিনেও সকল চা বাগানে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ হয়েছে। রেলওয়ে স্টেশনের পাশে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন এক ঘন্টা অবরোধ করে ক্ষুব্দ চা শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় থেকে প্রায় এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে শ্রমিকরা ট্রেন অবরোধ করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে বিকাল সোয়া ৫ টায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
জানা যায়, চা শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি ১২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ১১ তম দিনেও বিভিন্ন বাগানে চা শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। অভাব অনটন, ক্ষুধা ও কষ্টের মধ্যেও সন্তানাদিদের নিয়ে কোন ধরণের মজুরি ও রেশন না পেয়েও দীর্ঘ ১২ দিন ধরে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন শমশেরনগর চা বাগানের নারী শ্রমিক আশা অরনাল ও মনি গোয়ালা।
শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া, জেরিন ও কালীঘাট চা বাগানে গিয়ে চা শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে সাধারণ শ্রমিকদের অনুরোধ জানান মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া।
জেলা প্রশাসক চা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যতদ্রুত সমস্যা সমাধান করা যায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন। রাষ্ট্রের পক্ষে ও সরকারের পক্ষে আমরা আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি। প্রাথমিকভাবে আপনারা ১৪৫ টাকা মেনেও নিয়েছিলেন। তবে শিল্প ধ্বংসের জন্য কোন ব্যক্তি স্বার্থের পিছনে যাবো বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনাদের জন্য ভালো ও প্রত্যাশিত মজুরি নির্ধারণ করবেন। জেলা প্রশাসকের এই বক্তব্যের পর ভাড়াউড়া ও জেরিন চা বাগানে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও কালীঘাট বাগানসহ উপজেলার কোন চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যায়নি। তবে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন চা বাগানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে।
কুলাউড়ার চাতলাপুর চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি সাধন বাউরী বলেন, সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত আমরা কর্মসূচীতে ছিলাম। কোন নেতা বা কেউ আমাদের কিছু বলেননি।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল ও অর্থ সম্পাদক পরেশ কালেঞ্জী বলেন, চা বাগান পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দের কাছে প্রধানমন্ত্রীর মেসেজ পৌছে দিচ্ছি। চেষ্টা করছি তাদের বোঝানোর জন্য। কাজ কোথাও হচ্ছে কোথাও হচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন।
মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের মনু-ধলই ভ্যালী সার্কেলের চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল টি কোম্পানীর ডিজিএম শামসুল ইসলাম জানান, শ্রীমঙ্গলের দু’একটি চা বাগানে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও অধিকাংশ চা বাগানে তারা কাজে যোগ দেননি। জেলা প্রশাসনের সাথে শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পক্ষ থেকেও চা শ্রমিকদের কাজে যেতে চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগষ্ট থেকে ১২ আগষ্ট পর্যন্ত দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা ৩০০ টাকা করার দাবিতে ২ ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে গত ১৩ আগষ্ট থেকে শুরু হওয়া দেশের ১৬৭টি চা বাগানের প্রায় সোয়া লাখ শ্রমিকরা অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘট শুরু করেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জয়নাল/এসডি-২২




