সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এম. সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের হাতে লাঞ্ছিত হলেন এক সিনিয়র প্রভাষক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে রাস্তায় মানববন্ধন করেছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন অধ্যক্ষের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবে না।
বুধবার (২৪ আগষ্ট) অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের কক্ষে প্রভাষককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ঘটে।
.png)
জানা যায়, কলেজ চলাকালীন সময়ে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তার কক্ষে ডাকেন সমাজ কল্যাণ বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মো. ইকবাল হোসেনকে। অধ্যক্ষ সরকারের নতুন সময় সূচি অনুযায়ী রুটিন বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। ইকবাল হোসেনের একটি ক্লাস ১১ টায় ও অন্যটি ৩ টায় হওয়াতে তিনি অধ্যক্ষকে সমন্বয় করতে বলেন। তিনি এ সময় জানতে চান শিক্ষকদের না জানিয়ে গভর্ণিং বডিতে শিক্ষক প্রতিনিধি কি করে রাখা হলো। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। তার চেয়ার থেকে উঠে প্রভাষকের গায়ে হাত তোলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় কক্ষে উপস্থিত অন্য শিক্ষকরা তাকে শান্ত করেন।
বিষয়টি জানাজানির পর বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় মানববন্ধন করে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবী জানিয়েছে। তারা বলছে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবে না।
এম. সাইফুল রহমান ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোরশেদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছি আমরা। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় টিকে আছেন তিনি। কলেজের কোন শিক্ষক তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে হেনস্থা করা হয়। অধ্যক্ষের অনিয়মের বিষয়ে কথা বলায় বুধবার আমাদের সহকর্মী ইকবাল হোসেনকে মারধর করেছেন তিনি। আমরা দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অপসারণ চাই।
সমাজ কল্যাণ বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মো. ইকবাল হোসেন জানান, বুধবার ক্লাস চলাকালীন সময়ে আমাকে অধ্যক্ষ ডাকলেন তার রুমে যাওয়ার জন্য। সেখানে তিনি নতুন রুটিন নিয়ে কথা বলছিলেন। আমার ২টি ক্লাসের মাঝখানে ৩ ঘন্টা ব্যবধান হওয়ায় সমন্বয় করতে বলি। তিনি পারবেন না বলে উত্তেজিত হয়ে উঠেন। আমি এ সময় বলি আপনি কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি রাখলেন আমারা কেউ জানি না। এ কথা বলার পর তিনি চেয়ার থেকে উঠে আমাকে মারধর করেন এবং গালিগালাজ করেন।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, আমি তাকে কোন ভাবে লাঞ্ছিত করিনি। সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী ক্লাস বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম প্রভাষক ইকবাল হোসেনকে। তিনি এর বাহিরে আরো একদিন ছুটি চাচ্ছিলেন। আমি ছুটি দেইনি। আমার রুম থেকে ক্লাসে গিয়ে তিনি বলেন আমি থাকে লাঞ্ছিত করেছি। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জলিল/এসডি-১১




