বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান অবহেলিত চা শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। শুনেছেন তাদের দুঃখগাথা।
সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের চা শ্রমিকদের সঙ্গে শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি চা শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময়কালে সিলেটের চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা ও লাক্কাতুরা বাগানে নারী শ্রমিক শ্যামলী গোয়ালা। তবে এর মধ্যে রাজু গোয়ালা এর আগে সিলেটের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু শ্যামলী গোয়ালা এই প্রথম সরাসরি প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলাসহ চটগ্রাম বিভাগের চা বাগানগুলোর শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মতবিনিময় শুরু করেন। মতবিনিময়ের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সঞ্চলনায় ভার্চুয়াল সভায় শেখ হাসিনা চা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার বাবা চা বোর্ডের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন। তৎকালীন সময়ে চা শ্রমিকদের স্বার্থ চিন্তা করে তাদের জন্য যা যা করা দরকার সব করেছেন। তাঁর মতো আমিও আপনাদের জন্য যা যা করা দরকার সব করবো। চা শ্রমিকদের উন্নয়নে সব করতে প্রস্তুত রয়েছে সরকার।
পরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পাত্রখোলা চা বাগানের দলই ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানস্থল থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রিতা পানিতা ও সোনামনি রাজ হংসিমান নামের দুই নারী চা শ্রমিক সরাসরি কথা বলেন। বক্তৃতাকালে আবেগাপ্লত হয়ে পড়েন এ দুজন। প্রধানমন্ত্রী এভাবে সরাসরি কথা বলায় ধরা কণ্ঠে চোখের জল ফেলে তাঁর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। রিতা পানিতা তার বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের খুব ভালোবাসতেন। আমরা বিশ্বাস করি- আপনার বাবার মতো আপনিও আমাদের ভালোবেসে যাবেন। এছাড়াও রিতা পানিতা কমলগঞ্জের বাগানে প্রধানমন্ত্রীকে চায়ের দাওয়াত দেন।
দুই নারী চা শ্রমিকের বক্তৃতা শেষে স্থানীয় চা শ্রমিকদের গাওয়া রেকর্ডকৃত দুটি গান পরিবেশন করে প্রধানমন্ত্রীকে শুনানো হয়। পরে হবিগঞ্জের শিমুল ও আরেকজন নারী শ্রমিক বক্তব্য রাখেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শুনেন সিলেট জেলার চা শ্রমিকদের কথা।
সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকার গলফ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লাক্কাতুরা বাগানের নারী শ্রমিক শ্যামলি গোয়ালার হাতে মাইক্রোফোন তুলে দেন জেলা প্রশাসক। ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া শ্যামলি গোয়ালা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কয়েকটি দাবি পেশ করেন। সেগুলো হচ্ছে- সিলেটের চা শ্রমিকদের জন্য নিজস্ব ভূমি ও ঘর, চিকিৎসাসেবায় অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং চা শ্রমিক গর্ভবতী নারীদের ৪ মাসের বদলে ৬ মাসের ছুটির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
শ্যামলি গোয়ালার পরে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা। তিনি বক্তৃতাকালে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য চাকরির ক্ষেত্রে আলাদা কোটা ও উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের সুযোগ প্রদান এবং গ্রেচুয়িটি (অনিবার্য কারণবশত: ৫ বছর পর চাকরি ছেড়ে দিলে এককালীন ভাতা বা বখশিশ) ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নিজে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে চা শ্রমিকদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান রাজ গোয়ালা।
তাদের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের সকল শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ নাগরিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




