ছনবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৯৪ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। কোম্পানীগঞ্জ ও ছাতক উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে এই প্রতিষ্ঠানে। সুনামের সাথে পথচলা এই স্কুল রজতজয়ন্তী পার করে এখন তিন দশক পূর্তির দ্বারপ্রান্তে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ছনবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে বইছে এখন নির্বাচনী হাওয়া।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এত উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়নি স্কুলের গভর্নিং বডির নির্বাচন নিয়ে। তবে এবার তা সম্ভব হয়েছে তরুণদের হাতে নেতৃত্ব আশার কারণে। গত ৩ মাস আগে স্কুলের গভর্নিং বডির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির (এডহক কমিটি) দায়িত্ব পান ছনবাড়ী গ্রামের আজিজুল হক। প্রবাস ফেরত আজিজুল হক বিদেশের লেখাপড়ার পদ্ধতির বিষয়ে অভিজ্ঞ। নিজেও লেখাপড়া করেছেন বিদেশে। আমেরিকান পেন ফস্টার কলেজ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্কুলের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আজিজুল হক। চোখের সামনে দেখেছেন স্কুলের বাধা-বিপত্তি, উন্নয়ন-অগ্রগতি।
সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পরই শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত ক্লাসে আসে এবং লেখাপড়ায় মনযোগী হয়ে ভালো করতে পারে সে জন্য তিনি দু’সপ্তাহ অন্তর অন্তঃক্লাস মুল্যায়ন পরীক্ষা চালু করেন। বাচ্চাদেরকে স্কুলমুখী করতে বন্যাকালীন দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজ তহবিল থেকে বইপত্র কিনে দেন। এছাড়াও অনেকের ফরম ফিলাপের ফি, পরিক্ষার ফি ও স্কুলের বেতন দিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় উৎসাহ বাড়াতে একটি বিশেষ প্রাইজমানি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এবার যারা এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস অর্জন করতে পারবে তাদেরকে সিলেট-ঢাকা, ঢাকা-সিলেট এয়ার টিকেট দেওয়া হবে।
আজিজুল হক সভাপতি হওয়ার পর গভর্নিং বডির সদস্য ও শিক্ষকদের নিয়ে স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে শুরু করেন। তিনি বলেন, উন্নত পরিবেশ মানুষকে উন্নত চিন্তা ভাবনা শিখায়। তাই স্কুলের বৈদ্যুতিক পাখা সচল থেকে শুরু করে ক্লাসরুমের রঙ ও ক্লাসরুমের ভেতরে বিভিন্ন শৈল্পিক চিত্র অঙ্কন করান। সেই সাথে স্কুলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নিজ অর্থায়নে স্কুলের মাঠ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেন। তিনি স্কুলের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখায় জমিদাতা ও সাবেক সভাপতিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। স্কুলের উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে আজিজুল হক আবারও গভর্নিং বডির সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন। ৭ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে তার প্যানেলে রয়েছেন উদাসী মুজিব, বাহার গাজী, আলা উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, মোছাঃ রুমেনা বেগম।
স্কুলের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ অংশ নেওয়া ছনবাড়ী গ্রামের মোঃ আব্বাস আলী বলেন, আজিজুল হক ৩ মাসের মধ্যে স্কুলের উন্নয়ন ও লেখাপড়ার উন্নতির জন্য যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা অন্য কোন সভাপতি করেননি। তাঁকে আমরা দীর্ঘ মেয়াদে সভাপতি হিসেবে পেলে স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়ে যাবে। শিক্ষিতদের হাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থাকলে তার উন্নতি হবে বলে আমি মনে করি।
স্কুলের অভিভাবক সদস্যদের কয়েকজন জানান, দুপুর ২-৩টার দিকে স্কুল ছুটি হয়ে যেতো। আজিজুল হক সভাপতি হওয়ার পর এখন সময়মতো স্কুল ছুটি হয়। আবার ১০টার আগেও বাচ্চাদের স্কুলে যেতে হয়। এতে করে বাচ্চারা লেখাপড়ায় মনোযোগী হচ্ছে।
ছনবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রফিক বলেন, সভাপতি যেই আসুক স্কুলের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বর্তমান সভাপতিও এই কাজ করছেন।
আজিজুল হক বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে নিজ এলাকায় কিছুটা অবদান রাখতে পেরে নিজেকে খুব আনন্দিত মনে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেই উৎসাহ নিয়ে স্কুলে এসে পাঠদান গ্রহণ করছে তা অবিস্মরণীয়। শিক্ষকদের একান্ত আন্তরিকতায় স্কুলের লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। যে কারণে আমি স্কুলকে কলেজে রূপান্তরিত করার জন্য উর্ধ্বতন বিভিন্ন জায়গায় আলাপ করতেছি। ইতিমধ্যে কম্পিউটার ল্যাবের জন্য ১৩২টি কম্পিউটারের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সাথে আলাপ হয়েছে। তিনি কম্পিউটারগুলো দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। কোম্পানীগঞ্জের মধ্যে লেখাপড়ায় ঈর্ষনীয় সাফল্য বয়ে আনতে যা যা করা প্রয়োজন সব কিছুই করবো আমি। সকলকে সাথে নিয়ে কোম্পানীগঞ্জের মধ্যে ছনবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়কে একটি আদর্শ বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জলিল/পিডি




