কোচিংয়ের কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন কুমিল্লা ও ঢাকার সাত কলেজ ছাত্র। গত ২৩শে আগস্ট বাসা থেকে বের হয়ে তারা ফেরেননি। উৎকণ্টায় রয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় ওই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আফজাল হোসেন জানান, আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী মিসিংয়ের জিডি হাতে পেয়েছি। ৫ই সেপ্টেম্বর থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। তারা দলবদ্ধভাবে কোথাও গিয়েছে, নাকি অন্য কোনো বিষয় আছে তা তদন্তের পর বলতে পারব। আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করতে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইমরান বিন রহমান (১৭), একই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সামি (১৮), কুমিল্লা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম (১৮), একই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহাল আবদুল্লাহ (১৭), ভিক্টোরিয়া কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ইমতিয়াজ আহমেদ রিফাত (১৯), একই কলেজের স্নাতক (সম্মান) ৩য় বর্ষের আমিনুল ইসলাম আলামিন (২৩) ও ঢাকা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করা সরতাজ ইসলাম ওরফে নিলয় (২৫)।
তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, নিখোঁজ প্রত্যেক শিক্ষার্থীই একে অপরের পরিচিত। পড়াশুনার বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের প্রতি কখনও তারা সন্তানদের আগ্রহ দেখেননি। কলেজ, কোচিংয়ের বাইরে যে সময়টি পেতেন তখন বাসায় বই পড়া কিংবা মোবাইল ফোনে সময় কাটাতেন তারা।
তাদের সন্তানদের কোনো শত্রু নেই বলেও জানান তারা।
নিখোঁজ ইমরান বিন রহমান ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লা নগরীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুজিবুর রহমানের ছেলে।
মজিবুর রহমান জানান, তার ছেলে পড়াশোনা, কলেজ, কোচিং সেন্টার আর মসজিদ ছাড়া কোথায়ও যান না। ২৩শে আগস্ট দুপুরে আমাকে বলে- আব্বু, আমি আজ কোচিং থেকে রেলস্টেশন মসজিদে তাবলীগের বয়ান শুনতে যাব। ফিরতে দেরি হবে, আম্মুকে বলো না। ওইদিন রাতে বাসায় না ফেরার কারণে সারারাত খোঁজাখুঁজি করেছেন; পরদিন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় জিডি করেন এবং বিষয়টি কুমিল্লার র্যাবকে জানান।
নিখোঁজদের একজন সরতাজ ইসলাম ওরফে নিলয় ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসেন নিখোঁজ হওয়ার দিন। কুমিল্লা নগরীর রানীরবাজার এলাকায় তার খালার বাসা। ওই সাত তরুণের মধ্যে একজন হলেন নিলয়ের খালাতো ভাই নিহাল আবদুল্লাহ।
নিহালের বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ভায়রার ছেলে নিলয় গত ২৩শে আগস্ট আমাদের বাসায় আসবে বলে ঢাকার বাসা থেকে বের হয়; কিন্তু ঘটনার দিন নিলয় আমাদের বাসায় আসেনি। পরবর্তীতে এ ঘটনা জানতে পারি। নিহাল ও নিলয় ধর্মভীরু। ধর্মকর্ম করে বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে তাবলিগের বয়ান শোনে। ইমতিয়াজ আহম্মেদ রিফাতের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। কুমিল্লা নগরীতে তাদের ভাড়া বাসা।
তার বাবা ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, আমারে ছেলে কোচিংয়ের কথা বলে ঘর থেকে বের হয়। আমি তার সন্ধান চাই।
আমিনুল ইসলাম আলামিনের বাবা কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলার বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আলামিন আমার বড় ছেলে। সে আগে তাবলিগের নেতাদের সঙ্গে চিল্লায় যেত। পড়াশোনার পাশাপাশি কান্দিরপাড়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসত। ছেলে খুঁজে না পেয়ে হতাশ আমি। আমি তার সন্ধান চাই।
কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন, নিখোঁজ তরুণদের বিষয়ে পুলিশ অনুসন্ধান করছে। পুলিশ জানতে পেরেছে- বাড়ি ছাড়ার পর ওই তরুণরা কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরে যান। এরপর থেকে তাদের আর হদিস মেলেনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মাজ/ইআ-০৬




