মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শহীদনগর বাজারে আরসিসি ঢালাই কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৃষ্টির জমে থাকা পানির মধ্যে সিডিউল না মেনেই নিম্নমানের রড বিছিয়ে ঢালাই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।

 


এসব বিষয় নিয়ে ভাইরাল হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ বাজারের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে বৃষ্টির পানি ও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

তবে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।

জানা যায়, শহীদনগর বাজারের আরসিসি ঢালাই কাজ এবং আদমপুর ইউনিয়নের এক কি.মি. রাস্তা সংস্কারে সর্বমোট ২ কোটি ৭২ লক্ষ বরাদ্ধ আসে। কুলাউড়া উপজেলার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গিলমান এন্টারপ্রাইজ এই কাজের দায়িত্ব পায়। দীর্ঘ ২ মাসেরও বেশি সময় ধরে ড্রেনের কাজের কারণে বাজারে বৃষ্টির পানি ও কাঁদা জমে ভরপুর হয়ে উঠে। এতে জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। পরবর্তীতে আরসিসি ঢালাই কাজের জন্য রাস্তা ভেঙ্গে দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়া হয়। তবে রাস্তায় ঢালাইয়ের জন্য রডের সাইজ ও দুরত্ব নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে। বৃষ্টির জমে থাকা পানি ও সিডিউল এবং ইস্টিমিট এর কোন হিসেব না নিয়েই ইচ্ছেমতো কাজ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম হয়ে উঠেছে।

 

পতনঊষার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. সাজিদ আলী, বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আশিক মিয়া, সমাজকর্মী সাজিদুর রহমান সাচ্ছু, চিকিৎসক হেলাল খানসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাজের মান খুবই নিম্নমানের। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে নাম, সাইনবোর্ড টাঙ্গানো উচিত ছিল। তাছাড়া সিডিউল ও ইস্টিমিট অনুযায়ী কোন কাজই হচ্ছে না। বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ঢালাই কাজ চলছে।

 

একটির চেয়ে অপর রডের দুরত্ব বেশি ও রডের সাইজও ছোট এবং নিচে পলিবালি ফেলে যে ঢালাই কাজ হচ্ছে তা কিছুদিন পরেই ভেঙ্গে পড়বে বলে তারা দাবি করেন।

 

তারা আরও বলেন, এসব বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিযোগ দেয়া হলেও কোন গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি। অভিযোগ বিষয়ে ঠিকাদার গিলমান মিয়ার বক্তব্য জানতে চেয়ে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন।

 

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আদমপুরের একটি রাস্তাসহ শহীদনগর বাজারে ঢালাই কাজের বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। শহীদ নগর বাজারে কাজের মান নিয়ে এলাকার লোকজনের ফোনের যন্ত্রনায় নিজে অতিষ্ঠ। তবে কাজের মান ভালো। এক ফুট দুরত্বে ৩ মি.মি. সাইজের রড দেয়া হচ্ছে।

 

কোন অনিয়ম হচ্ছে না হচ্ছে না বলে তিনি জানান উপসহকারী প্রকৌশলী সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জয়নাল/এসডি-১০