সিলেটের এক আইনজীবীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশি তদন্তেও পাওয়া গেছে এর সত্যতা। মিথ্যা মামলা থেকে ওই আইনজীবীকে অব্যাহতি দিতে আদালতের কাছে আবেদন করেছে পুলিশ। 

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন এইচ এম এগ্রো ফার্মের জমি দখলের জন্য দীর্ঘ দিন যাবত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার আহমদপুর গ্রামের ওয়াতির আলী হাবিব মিয়ার ছেলে, বর্তমানে সিলেটের শাহপরাণ থানাধীন খাদিম বিসিক এলাকার বাসিন্দা কয়সর আহমদ ও তার সহযোগিরা। এ বিষয়ে এইচ এম এগ্রো ফার্মের মালিককে আইনি সহায়তা করেন এয়ারপোর্ট থানার বড়শালা এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী মোহাম্মদ মিছবা উল ইসলাম কয়েস। এতে তাঁর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে কয়সর আহমদ কয়েসকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর পায়তারা করেন।


এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে স্বপনা রানী চক্রবর্তী উরফে স্বপ্না রানী গোস্বামী নামের এক নারী দিয়ে তার প্রকৃত নাম ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র গোপন করে ঢাকা শাহবাগ থানায় আইনজীবী কয়েসের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। 

পরবর্তীতে মামলার দায়িত্ব পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর উপর। পিবিআই’র এস.আই জামাল উদ্দিন মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে এটি সাজানো মিথ্যা বলে প্রমাণ পান এবং আদালতের কাছে কয়েসকে এ মামলা থেকে অব্যাহতির প্রার্থনা জানান। এছাড়াও স্বপনা ও কয়সরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন এস.আই জামাল।
 
পিবিআই’র চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বপনা ও কয়েসের পাশাপাশি এয়ারপোর্ট থানার বড়শলা গ্রামের মৃত জিয়া উদ্দিনের ছেলে শামিম আহমদ, একই এলাকার মৃত জিয়া উদ্দিনের স্ত্রী জহুরা জিয়া, সিলেট জেলার বালাগন্জ উপজেলার আহমদপুর (গহরপুর) গ্রামের ওয়াতির আলীর ছেলে কয়সর আহমদ, বিশ্বনাথ উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের সমুজ আলীর মেয়ে জুবিন বেগম, রমনা মডেল থানার সিদ্বেশ্বরী অন্তরা আবাসন এলাকার ইউনুস আলীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট আনোয়ারা শিখা এবং একই এলাকার গোপাল চন্দ্র গোস্বামীর ছেলে রঞ্জন চন্দ্র গোস্বামীকে অভিযুক্ত করা হয়। 

এ বিষয়ে মোহাম্মদ মিছবা উল ইসলাম কয়েস বলেন- কয়সর আহমদ চক্রের  প্রলোভনে ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট স্বপনা রানী চক্রবর্তী উরফে স্বপ্না রানী গোস্বামী ও তার স্বামী রজন চন্দ্র গোস্বামী তাদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে কয়েসের নাম-ঠিকানা রেজিস্ট্রারে লিখে রাতে ঢাকার হোটেল মেট্রোপলিটনের ৪র্থ তলার ৩১০ নং রুমে রাত্রি যাপন করেন। পরের দিন বিকাল ২টায় কয়সর আহমদের অপকর্মের সহযোগী আনোয়ারা শিখার সহযোগিতায় স্বপনা রানী ডিএমপির শাহবাগ থানায় হাজির হয়ে সাজানো মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। অথচ ওই দিন আমি সিলেটে ছিলাম। পরবর্তীতে তদন্তে সত্য বিষয়টি উদঘাটন হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন- কয়সর আহমদ চক্র এইচ এম এগ্রো ফার্মে বার বার হামলা করে জায়গাটি দখল করতে ব্যর্থ হয়। এইচ এম এগ্রো ফার্মের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মিসবা উল ইসলামের আইনগত সহযোগিতার কারণেই আমার প্রতি কয়সর তার সহযোগিদের এই আক্রোশ। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে সব সত্য বেরিয়ে এসেছে।  

মিছবা উল ইসলাম কয়েস অভিযোগ করে বলেন- বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি- কয়সর আহমদ যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে খারাপ চরিত্রের নারী দিয়ে এভাবেই বিভিন্নজনকে ফাঁসিয়ে থাকেন। এ কাজে তাকে সযোগিতা করেন আনোয়ারা শিখা নামের এক নারী আইনজীবী। 

আর কেউ যাতে এভাবে কয়সর চক্রের মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য অভিযুক্তদের কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি দাবি করেন অ্যাডভোকেট মিসবা উল ইসলাস কয়েস।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডি.আর