পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, “এ দেশে অসাম্য আছে, বৈষম্য আছে, অবিচার আছে বিধিবদ্ধ অন্যায় আছে, আইনে স্থাপিত ও প্রতিষ্ঠিত অন্যায় এই দেশে আছে। যেগুলো দারিদ্রতার পক্ষে এবং দীর্ঘদিন মানুষকে দারিদ্রতায় রাখতে কাজ করে।’’
শনিবার বিকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “গ্রামাঞ্চলে বিল থাকে, সেখানে মাছও থাকে; আবহমান খাল ধরে গ্রামের মানুষ সেগুলো ধরে খায়। কিন্তু এখন আইন করে এসব জায়গা ইজারা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন যাদের পুঁজি আছে, টাকা আছে তারা ইজারা নেয়। সুতারাং ইজারাদার সাধারণ মানুষদেরকে সরিয়ে দিয়ে সে নিজে খায়। এটা বিধিবদ্ধভাবে ও আইনিভাবে করা হয়েছে।”
এই বিলগুলো থেকে দরিদ্র লোকগুলো নিজে পরিশ্রম করে মাছ ধরতো এবং সেই মাছ থেকে একটু প্রাকৃতিক আমিষ পেতো; এখন এই সুবিধা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া দারিদ্রতার অসাম্যের ও বৈষম্যের শত শত উদাহরণ আছে বলেও জানান মন্ত্রী।
‘৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ওই সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্জন ও সম্ভাবনা অনেক। অনেক চ্যালেঞ্জও আছে।
চ্যালেঞ্জের দিকটি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সবার আগে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দরকার। যেটা জীবনের জন্য এবং বাঁচার জন্য খুব প্রয়োজন। এটার কোনো বিকল্প নেই। কবিতা লিখে গান লিখে ছবি এঁকে পেট ভরবে না। অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ, আউটপুট ও উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের ৫০ বছরে অর্থনৈতিক পরিবর্তন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এবং পরবর্তী সময়েও এটাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কথা বললেন মন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই মূহুর্তে আমদের দরকার ঐক্যবদ্ধভাবে চলা। সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতারও প্রয়োজন । জীবনের শান্তির জন্য এটা দরকার। একইসাথে পরিবেশ বিনাশী ও বিধ্বংসী কোনো কাজ আমরা করবো না।
সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস।
সম্মেলনের সারাংশ উপস্থাপন করেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক জায়েদা শারমিন।
সমাপনী বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের আহবায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক দিলারা রহমান।
সমাপনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দীকা ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল হক শাকিল।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/এসডি-২৬




