সিলেট বিভাগজুড়ে বইছে জেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া। অন্যান্য দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও অনেক জায়গায় নিজেদের কাঁটায়-ই বিদ্ধ হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
সারা দেশের ন্যায় সিলেট বিভাগের ৪ জেলায়ও আগামী ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠন অংশ নিচ্ছে না। চেয়ারম্যান পদে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় সিলেটে অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ও মৌলভীবাজারের মিছবাহুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার পথে। শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি।
তবে সিলেটের বাকি দুই জেলার চিত্র ভিন্ন। সুনামগঞ্জ আর হবিগঞ্জে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন একাধিক প্রার্থী। সুনামগঞ্জে এবার দলীয় সমর্থন পয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জজকোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ড. অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন। তবে দলীয় সমর্থন বঞ্চিত হয়ে গেলবারের মতো এবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট। আর এতেই বেঁধেছে বিপত্তি। দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে যাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন সিলেটভিউ-কে বলেন, প্রার্থীতা প্রত্যাহরের বিষয়ে নুরুল হুদা মুকুটের সঙ্গে মাননীয় মন্ত্রী এম এ মান্নান মহোদয়কে কথা বলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিলো। তিনি কথাও বলেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। এছাড়া বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও মুকুটের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনজন প্রতিনিধি নির্ধারিত করা হয়- যারা এই বিষয় নিয়ে একটি চিঠি কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। আশা করি ২৫ তারিখের ভিতরে মুকুট তাঁর প্রার্থীতা বাতিল করবেন।
ব্যারিস্টার ইমন আরো বলেন, মুকুটের পরিবারে ৮জন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে পদস্থ আছেন। তার পরেও একটি পোস্ট ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করছেন তিনি, যা দলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। দল করতে হলে দলের আনুগত্য স্বীকার করতে হয়ে। একগুঁয়েমি করে দল করা যায় না।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান সিলেটভিউ-কে বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করলে হাই কমান্ড যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে মুকুটের বিষয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সবাই ঐক্যবদ্ধ। দলীয় সব নেতাকর্মী যার যার অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয়ের জন্যই কাজ করবেন।
এদিকে, সিলেটভিউ’র কাছে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দুই প্রার্থী- ড. অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন ও নুরুল হুদা মুকুট।
দলীয় সমর্থন পাওয়া ড. অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন সিলেটভিউ-কে বলেন, দলীয় সমর্থন পাবার পর পরই আমি বিরোধী প্রার্থীকে অনুরোধ করেছিলাম- নেত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যার করার জন্য। তার পরেও তিনি নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। গতবারও তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন, দল তাকে কিছু বলেনি। উল্টো দল তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তার পরিবারের আট সদস্য আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে আছেন। তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলা শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বানানো হয়েছে। আমি মনে করি- এবার যেহেতু দলীয় সমর্থন পাননি, নেত্রীর প্রতি সম্মান দিখিয়ে তিনি তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন।
‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট সিলেটভিউ-কে বলেন, আমি গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছি। এবারো তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও দাবির কারণে আবারো নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিগত সময়ের আমার কাজে জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে জেলা পরিষদের অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। যার সুফল ভোগ করছেন সাধারণ মানুষ। আমি মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।
তিনি বলেন- কেন্দ্র থেকে আমাকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। আমকে বলাও হয়নি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে। স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী আমকে অনুরোধ করেছেন নির্বাচন না করতে।
সুনামগঞ্জে বিএনপিকে মোকাবেলা করার মতো তিনি ছাড়া আর কেউ নেই উল্লেখ করে নুরুল হুদা মুকুট বলেন- দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্বাচন না করার কথা বলা হলেও আমি সরে দাঁড়াবো না, নির্বাচন করবো না। তবে আমার বিশ্বাস- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন। তিনি এমন নির্দেশনা দিবেন না। এবারো আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডালিম




