সিলেট মহানগরের বন্দরবাজার এলাকায় অবস্থিত হাসান মার্কেটকে ভেঙে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণের কথা সিসিক মেয়র বার বার বললেও এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আশার বাণীতেই আটকে আছে মহানগরবাসীর স্বপ্নের এ প্রকল্প।
যদিও সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাজেট অনুষ্ঠানে মেয়র আরিফ বলেছেন- প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি ফাইল জমা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে দৃশ্যমান সাফল্য মিলবে।
এবারের বাজেট বক্তৃতায় সিসিক মেয়র আরিফ বলেন- ‘সিলেট মহানগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও অগ্রগতি সাধনের জন্য একটি আধুনিক সর্ববৃহৎ মার্কেট কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য আমরা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জানি না, আমি এই মেয়াদে সেই কাজ শুরু করতে পারব কি-না। বিগত বাজেট ঘোষণাকালে আমি উল্লেখ করেছিলাম, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আমরা সিলেটে বৃহত্তম বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। প্রায় ১৭শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ২৬ তলা বিশিষ্ট এ কমপ্লেক্সে থাকবে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, বঙ্গবন্ধু প্লাজা, হেরিটেজ মার্কেট, কমার্শিয়াল হাব, শেখ রাসেল পার্ক, কনভেনশন সেন্টার, অডিটোরিয়াম, ফেয়ার প্রেসসহ নানাবিধ সুবিধা।
তিনি আরও বলেন- ‘ইতোমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছি। পরে আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য দাখিল করেছি। জানি না কবে এটা অনুমোদন করবে।’
সিলেটের ব্যবসা বাণিজ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদী সিসিক মেয়র।
এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান নির্বাহী (অতিরিক্ত সচিব) বিধায়ক রায় মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেটভিউ-কে বলেন- ‘আমরা এ ব্যাপারে প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ করেছি। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর নামকরণের জন্য ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন পেয়েছি। কিন্তু এ কাজ করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে একনেকে প্রকল্পটি পাশ হলে এর কার্যক্রম শুরু হবে। এটি সময়সাপেক্ষ বিষয়।’
এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে সিলেটে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমপ্লেক্স’ স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. এ কে আব্দুল মোমেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাস্ট এ অনুমোদন দিয়েছিলো।
সিলেট অঞ্চলের মানুষের অন্তরে বঙ্গবন্ধুর অক্ষয় স্মৃতি জাগরুক রাখার লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমপ্লেক্স’ বৃহৎ স্থাপনা গড়ে তুলতে দুই বছর আগে পরিকল্পনা গ্রহণ করে সিলেট সিটি করপোরেশন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত বছরের ১০ জুন ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ বরাবারে একটি আবেদন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ জুলাই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমপ্লেক্স’ স্থাপনের অনুমতি দেয় ট্রাস্ট।
সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সিটি সুপার মার্কেট নিয়ে গড়ে তোলা হবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমপ্লেক্স’। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করবে সিলেট সিটি করপোরেশন। অত্যাধুনিক এই কমপ্লেক্সের নকশাও ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমপ্লেক্স’ নির্মাণে নকশা প্রণয়নের কাজ করেছে ট্রায়াঙ্গল কনসালট্যান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে হবে এই কমপ্লেক্স। হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সিটি সুপার মার্কেটের জায়গায় এই কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। এখানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থাকবে। রাখা হবে দৃষ্টিনন্দন নাগরিক চত্বর।
কমপ্লেক্সের মধ্যে থাকবে ‘বঙ্গবন্ধু চত্বর’। যেখানে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীকী উপস্থাপনা থাকবে।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে আঙুল উঁচিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তাঁর সেই উঁচু অঙ্গুলির আদলে এই কমপ্লেক্সে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। থাকবে ‘বঙ্গবন্ধু প্লাজা’। যেখানে সিনেপ্লেক্স, অডিটোরিয়াম, ১ হাজার আসনের কনভেনশন হল, মুক্তিযুদ্ধের দালিলিক স্মারক সংগ্রহশালাও রাখা হবে।
কমপ্লেক্সে থাকবে খোলা পার্ক, বইমেলা বা কুঠিরশিল্প মেলা করার জন্য ৩৪২টি স্টল বসানোর সুবিধা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ রাখা হবে।
এছাড়াও হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য ৬ তলাবিশিষ্ট মার্কেট নির্মাণ করা হবে। ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে’র ল্যাম্পপোস্টগুলো হবে সিলেটের ঐতিহ্য দুটি পাতা-একটি কুঁড়ির আদলে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / মুন্না / ডালিম




