নব্বই দশক পর্যন্ত যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল চিঠি এবং জরুরি বার্তার আদান প্রদানের জন্য টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন ব্যবহৃত হতো। একমাত্র জেলা শহর ব্যতীত গ্রামীণ জনপদে টেলিফোনের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সীমিত।

পরিবার কিংবা প্রিয়জনের চিঠির জন্য অপেক্ষায় থাকতো মানুষ। বিজ্ঞানের যুগ পেরিয়ে মানুষ এখন প্রযুক্তির যুগে। মুঠোফোন আর ইমেইলের ইনবক্স এখন ডাকবাক্সের নতুন সংস্করণ। ‘চিঠি লিখো’ গানটি যেমন হারিয়ে গেছে। তেমনি চিঠি ফেলার সেই ডাকবাক্সগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। ডাকবাক্সটিতে আর চিঠি ফেলে না কেউ। এখন কাজ চলে মুঠোফোনের এসএমএস আর ইমেইলে মাধ্যমে।


দেশের অন্যান স্থানের মতো সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রধান ডাকঘরের অধীনে মোট ২১টি ডাকবাক্স রয়েছে। এখনো প্রতিদিনই প্রচুর পরিমানে চিঠি জমা হয় এবং নিয়মিত তদারকির করা হয় ঠিকগুলো ঠাকভাবে পৌছাচ্ছে কিনা। তবে আগের মতো ডাকবাক্সে চিঠি আসে না।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ইমেইল, মোবাইলসহ অনলাইন ইন্টারনেটের কল্যানে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ লভ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে চিঠির প্রয়োজনীয়তা। মোবাইল ফোনে মুহুর্তের মধ্যে দূরের ও কাছের নিকট স্বজনের খোঁজ-খবর নেওয়া যাচ্ছে। ফলে পোস্ট অফিসের ডাকবক্সগুলো এখন শুধু কালের স্বাক্ষী। আগের মতো এখন আর ব্যস্ততাও নেই ডাকপিয়নদের।

কয়েকজন ডাকপিয়নদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, আগের মতো ডাকবক্সেগুলোতে চিঠি পরে না। সিলেট নগরীরর আশপাশ এলাকার পোস্ট আফিসের ডাকবক্সগুলো অনেকটা  ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছে মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা জানান,  দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোত জড়িত ছিল ডাক বিভাগ বা পোস্ট অফিসের ডাকবাক্স। সাধারণ থেকে অতিগুরুত্বপূর্ণ সকল প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতো এ ডাকবাক্স গুলো। কিন্তু বর্তমানে এর প্রয়োজন এক প্রকার ফুরিয়ে গেছে অনেকটাই। 
এক জরিপে দেখা যায়, ২০০৪ সালেও দেশে ২৩ কোটি চিঠি লেনদেন হয়েছে। অথচ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সাধারণ চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে ৫ কোটি আর ২০১৪-১৫ সালে হয়েছে ৪ কোটি। এভাবেই প্রতিবছর ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার দিন দিন কমছে। পুরনো দিনের চিঠি আজও প্রবীণ ও মধ্য বয়সীদের জীবন অধ্যায়ের পাতা। 

সিলেট পোস্ট অফিসে চিঠি ছাড়তে আসা এক যুবক জানান, ডাকবাক্স  চালু আছে কি না সেটাই জানি না। এছাড়া ডাকবাক্স চিঠি ছাড়লে আদোও কি চিঠি পৌছাবে কি না সেটিও জানিনা। 

রফিক নামের একজন বলেন- ইন্টারনেটের যুগে ফেইসবুক, হোয়াটস্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে এখন যোগাযোগ করা অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছ্। আগে শুনেছে এর মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়। তবে আমি কখনো ব্যবহার করিনি। আমি নগরীর অনেরক জায়গায় দেখেছি ডাকবাক্স আছে তবে কখনো দেখিনি এটি খুলতে বা এর থেকে চিঠি নিতে। প্রয়োজন হলে পোস্ট অফিসে চলে আসি নিজেই চিঠি পোষ্ট করতে। 

সিলেট প্রধান ডাকঘরের পোস্ট অফিস সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মলয় কান্তি সরকার বলেন, এখনো প্রতিদিন বিকেলে ডাকবাক্স পিয়ন চিঠি সংগ্রহ করেন, দিনের এটি নিদ্রিষ্ট সময়ে এগুলো খুলা হয়। এগুলো সচল আছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রধান ডাকঘরের অধীনে মোট ২১টি ডাকবাক্স রয়েছে। এখনো প্রতিদিনই প্রচুর পরিমানে চিঠি জমা হয় এবং নিয়মিত তদারকির করা হয় ঠিকগুলো ঠাকভাবে পৌছাচ্ছে কিনা। তবে আগের মতো ডাকবাক্সে চিঠি আসে না। ডাকবাক্স বাংলাদেশের প্রচীন একটি ঐতিহ্য। এটি সব সময় চালু থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

সিলেট প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল (এপিএমজি) সুজিত চক্রবর্তী বলেন, মোবাইলসহ অনলাইন ইন্টারনেটের কল্যানে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ হয়ে গেছে তাই মানুষ আগের মতো আর ডাকবাক্স ব্যবহার করেন না। এখন শুধু প্রতিষ্ঠানিক চিঠিগুলো ডাকবাক্স পরে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / মাহি / ডি.আর