ছবি : আহমেদ শাহিন

জেলা ও মহানগরের কমিটি গঠনের পরই সিলেট যুবদলের উদ্যোগে বিভাগীয় যুবসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, সারা দেশে গুম-খুন ইত্যাদির প্রতিবাদ এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের এই বিভাগীয় সমাবেশ রোববার বিকেলে (২৫ সেপ্টেম্বর) মহানগরীর রেজিস্ট্রি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 


তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন- এ সরকার এক অবৈধ সরকার। জোর করে ও বিরোধী শক্তিকে দমন-পীড়ন করে ক্ষমতায় টিকে আছে। এই সরকার প্রথমে যেসব প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিয়েছিলো তার একটিও পূরণ করেনি। এছাড়া লুটপাট করে দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে আর বেশিদিন নয়- আল্লাহর রহমতে এ সরকারের পতন ঘটবেই। কারণ- জুলুম করে কেউ কোনোদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। আর যেদিন পতন ঘটবে সেদিন দুর্নীতিবাজ এ সরকারের নেতা-নেত্রীদের জায়গা হবে বঙ্গোপসাগরে।  

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন- আওয়ামী লীগ বেসিক্যালি একটি সন্ত্রাসী দল। দলটির জন্ম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সন্ত্রাস ছাড়া কোনো দিন টিকে থাকতে পারেনি। সবকিছুর মধ্যে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সব থেকে বড় হাতিয়ার। মুন্সীগঞ্জে যুবদল নেতা শাওন রাষ্ট্রীয় হত্যাকণ্ডের শিকার। হত্যা, হামলা-মামলা কিংবা দমন-নিপীড়ন করে সরকার যুবদলের আন্দোলন সংগ্রাম বন্ধ করতে পারবে না। এদিকে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ সরকারের নিজস্ব বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। যে কারণে এ দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বহির্বিশ্বে কোনো ইজ্জত নেই। আমরাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেপরোয়া সদস্যদের তালিকা করছি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এদের বিচার হবে। 

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, দমন-নিপীড়ন যতই বাড়বে, আন্দোলনের গতিও ততই বাড়বে। আর সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলতেই থাকবে। এই যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের যে প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি, তাতে ভীত হয়ে আওয়ামী লীগ এবং অগণতান্ত্রিক ও অনির্বাচিত সরকার আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। ‘এসব দেখে আমার একটি বিশ্বাস জন্মেছে, এই সরকার আর একবারের জন্যও ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক, সেটা এ দেশের জনগণ চায় না।’

সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিনের সভাপতিত্বে ও মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা মো: সম্রাট হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। বিশেষ বক্তার বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর যুবদলের সভাপতি শাহ নেওয়াজ বখত চৌধুরী তারেক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিলেট মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ও সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিব, সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল, সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি এডভোকেট আবুল মনসুর শওকত, হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি জহিরুল ইসলাম সেলিম, মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এম. এ মুহিত, হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ।

উপজেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবুল হাসনাত, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বাবর আহমদ রনি।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডালিম