সিলেটের দীর্ঘতম সেতু ধলাই ব্রিজকে হুমকিতে ফেলে নদী থেকে চিপ পাথর এবং বালু উত্তোলন করছিলো একটি চক্র। যদিও উত্তোলনের স্থানটি ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এবং কালাসাদেক বিজিবি ক্যাম্পের নাকের ডগায়।
তবে শেষ পর্যন্ত ‘খবরটি’ পৌঁছলো ফাঁড়ি পুলিশের কানে। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকালে অভিযান চালিয়ে বালু ও পাথরখেকোদের ১১টি নৌকা জব্দ করেছে পুলিশ।
সিলেটের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু কোম্পানীগঞ্জের ধলাই ব্রিজ। চালু হয় ২০০৫ সালে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পূর্ব ও উত্তর রণিখাই ইউনিয়নকে সংযুক্ত করা এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করা যায় গোয়াইনঘাট উপজেলায়ও।
ব্রিজটিকে কেন্দ্র করে জীবনমানের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে পূর্ব ধলাইয়ের বাসিন্দাদের। বর্তমানে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ধলাই ব্রিজ টু দয়ারবাজার রাস্তা। যে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজকে কেন্দ্র করে মহাপরিকল্পনা করছে সরকার- ঠিক সেই ব্রিজের নিচেই পড়েছে ‘শকুনদের নজর’।
সম্প্রতি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঠিক ব্রিজের নিচ থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে কিছু দুষ্কৃতকারী। ব্রিজের পিলারের গুড়া থেকে গর্ত করে বালু পাথর উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে ব্রিজটি।

স্থানীয়রা বলছেন- চক্রের নির্ধারিত শ্রমিকরা রাত-দিন ব্রিজের পিলারের পাশ থেকে উত্তোলন করায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে ধলাই পূর্বপাড়ের দুইটি ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ঘটতে পারে প্রাণহানিও। এই ব্রিজ ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এবং কালাসাদেক বিজিবি ক্যাম্পের একেবারে নিকটবর্তী হওয়ার পরও পাথর-বালুখেকো চক্র কীভাবে এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে!
তবে পুলিশ বলছে- নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও এ চক্রকে দমন করা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- ধলাই ব্রিজের পিলারের গুড়া থেকে গর্ত করে বালু পাথর উত্তোলন করার চিহ্ন স্পষ্ট। ঠিক গুড়ায়-ই গর্ত করার ফলে যে কোনো সময় এই পিলার ধসে যেতে পারে। এমনটি চলতে থাকলে কিছুদিনের ভিতর ব্রিজটিও দেবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- স্থানীয় আশিক, নেমান ও সিদ্দেক আলী ও তাদের সহযোগিদের নেতৃত্বে বারকি শ্রমিকরা ব্রিজের নিচ থেকে বালু ও চিপ পাথর উত্তোলন করে থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার সকালে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহাব উদ্দিন তাঁর টিম নিয়ে অভিযান চালিয়ে ১১টি নৌকা জব্দ করেন।
তবে কাউকে আটক করা হয়নি। জব্দকৃত নৌকাগুলো শ্রমিকদের বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে- মূল চক্রের কাউকে আটক করা যায়নি।
এ বিষয়ে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই শাহাব উদ্দিন সিলেটভিউ-কে বলেন- পূজার ডিউটির জন্য আমরা নদীর দিকে তেমন লক্ষ্য রাখতে পারিনি। এই সুযোগে কিছু দুষ্কৃতকারী ব্রিজের পাশ থেকে চিপ পাথর উত্তোলন করেছে। খবর পেয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) আমরা অভিযান করে ১১টি নৌকা জব্দ করেছি।
তিনি বলেন- এ স্থানে আর কাউকে বালু-পাথর তুলতে দেওয়া হবে না। এখন থেকে ধলাই ব্রিজসহ আশপাশ এলাকায় আমাদের পুলিশ নিয়মিত টহল দেবে।
এক প্রশ্নের জবাবে এস.আই শাহাব উদ্দিন বলেন- কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। নৌকাগুলো নেহায়েত গরিব শ্রমিকদের। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তাদেরকে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




