সুনামগঞ্জে সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হরিনাপাটি গ্রাম সুরমা নদীর ভাঙ্গনের কবলে নিশ্চিহ্নের পথে। অব্যাহত ভাঙ্গনের কারনে ঘর বাড়ি, ফসলী জমি হারিয়ে নিঃস্ব গ্রামের শত শত পরিবার। নদীর তীব্র ভাঙ্গনের মধ্যে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্ত কর্তৃক অবৈধ বালি উত্তোলন।

 


অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনে নদীর এই ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এদিকে নদীতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনকারীদের গ্রেফতার ও ভাঙ্গন রোধ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী।

 

শুক্রবার বিকালে ভাঙ্গন কবলিত নদী তীর এলাকায় এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এলাকাবাসী।

 

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছর ধরে নদী ভাঙ্গনে অব্যাহতভাবে বিলীন হচ্ছে হরিনাপাটি গ্রামের নদী তীরের বসতঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, বাজার, রাস্তাঘাট, ফসলী জমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে একাধিকার দাবি জানালেও কার্যকর কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। সাময়িকভাবে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধ করার চেষ্টা করলেও রাতের আঁধারে নদীতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করায় ফের ভাঙ্গনে বেস্তে যাচ্ছে অস্থায়ি প্রকল্পের এই উদ্যোগ। ফলে নদীর তীরে অবস্থিত কয়েক শত মানুষের কর্মস্থল সওদাগর ব্রিকস ফিল্ড, হরিনাপাটি বাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে।

 

অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের আইনের আওতায় না আনলে শত বছরের এই হরিনাপাটি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হতে পারে বলে শঙ্কা তাদের। তাই ভাঙ্গন রোধো স্থায়ি প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, সওদাগর ব্রিকস ফিল্ডের সত্ত্বাধিকারী মাহবু্ব আলম, হরিনাপাটি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফ, ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন, শওকত আলী, হারুন মিয়া, মুজিবুর রহমান, আজমান আলী মাস্টার, সমাজসেবী মো. রফিক মিয়া, আজর আলী, শাফি উদ্দিন ফাহিম, বদর উদ্দিন, মোজাম্মেল আলী, আব্দুল আহাব, হাবিবুর রহমান, শিতল কান্তি রায়, গৃহহীন রাশেদা বেগম।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শহীদ/এসডি-১০