ছবি : প্রথম আলোর সৌজন্যে

সিলেটে আরারো পর্যটকদের পদচারনায় মুখর হয়েছে পর্যটন স্পটগুলো। করোনা মহামারির পর পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়ায় আশার মুখ দেখছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু সিলেটে ভয়াবহ বন্যার কারণে আবারো পিছিয়ে পড়ে সিলেটের পর্যটন খাত।  

কিন্তু এমাসের প্রথম থেকেই সিলেট বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোন। ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর সিলেটের অন্যতম একটি পর্যটন স্পট। সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রকৃতি মায়ায় মোড়ানো ভোলাগঞ্জ দেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারির অঞ্চল।


ভোলাগঞ্জ সীমান্তে প্রাকৃতিক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উঁচু উঁচু পাহাড়। সেই পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণা ধারা একদিকে ধলাই নদের পানির যোগানদাতা অন্যদিকে এই পানি প্রবাহই ভোলাগঞ্জের রূপের উৎস। সবুজ পাহাড়, মেঘের হাতছানি আর বর্ষার পাহাড়ি ঢলের সাথে নেমে আসা সাদা পাথর ধলাই নদের বুকে মিলে মিশে ভোলাগঞ্জের সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। ধলাই নদের উৎস মুখের পাথর পরিবেষ্টিত জায়গাটুকু ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট বা সাদা পাথর নামে পরিচিত।

বন্যা-পরবর্তীকালে আবারও পর্যটকমুখর হয়ে উঠেছে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র। এ মাসের প্রথম থেকেই পর্যটকের ঢল নেমেছে এ পর্যটন স্পটে। এতে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠছেন সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। 

সরজমিনে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণ পিপাসু হাজারো পর্যটকের ঢল নেমেছে সাদা পাথরে। এতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠছেন এই খাতের জড়িতরা।

ভ্রমনে আসা পর্যটকের ঢলের কারণে প্রায়েই সংকট দেখা দিচ্ছে নৌকার। পর্যটকেরা সিলেট শহর থেকে গাড়ীতে এসে ভোলাগঞ্জ ১০নং নৌকা ঘাট থেকে প্রতি আটজনে একটি নৌকা নিয়ে যেতে হয় সাদা পাথর পর্যটন স্পটে। লাইনে দাঁড়িয়ে আট শত টাকা দিয়ে নৌকার ভাড়া করছেন পর্যটকরা। তীব্র গরমের মাঝে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করছে নৌকার। পর্যটকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে কেউ কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে নৌকা পেয়েছেন।

সাদা পাথর পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অক্টোবর মসের প্রথম থেকেই সাদা পাথরে পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু করে। এমনিতেই বছরের এ সময় থেকে সাধারণত পর্যটকদের আনাগোনা বাড়া শুরু হল। তবে করোন আর পরে বন্যার কারেন বেশকিছুমাস পর্যটকদের আনাগোনা কম ছিল সাদা পাথরে। 

সাদা পাথার নৌকাঘাটের ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে থাকা সুমান বলেন, সাধারনত শীতের শুরুতে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। তবে এবার একটু আগে থেকেই পর্যটকরা আসছেন। করোনা ও বন্যার কারণে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে পর্যটক ছিল একেবারেই কম। যে কারনে ব্যবসা সংশ্লিষ্ট সবার অনেক ক্ষতি হয়েছে।’

তবে এ মাসের শুরু থেকেরই অনেক পর্যটক আসছেন। গত শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজারের অধিক পর্যটকের আগমণ ঘটেছিল।

এছাড়া ‘প্রতিদিন সাদাপাথরে হাজার হাজার পর্যটকের আগমণে আমাদের নৌকাগুলোর চাহিদা দুই-তিন গুণ বেড়েছে। এতে আমাদের আয়ও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আমাদের শতাধিক নৌকা প্রতিদিন কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটি ট্রিপ দিচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে ভালো সময় যাচ্ছে।’
ঢাকা থেকে ভ্রমণে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মিলন আহমেদ বলেন, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের কথা অনেক শুনেছি। তাই সুযোগ খুজে চলে এলাম। এখানে এসে কি যে ভালো লাগছে বলে বুঝাতে পারবো না। এতো সুন্দর জায়গা দেশের আর কোথাও নেই। সাদা পাথরে এসে খুব ভালো লাগছে তবে প্রচুর পর্যটক থাকায় নৌকা পেতে কষ্ট হয়েছে।

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটন স্পটে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা জামান বলেন, সাদাপাথর নৌকা চালিয়ে চেলে তার জীবিকা। তিনি বলেন, ‘বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়ছে। বাড়িঘরও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বন্যার সময় পর্যটক না আসায় আমরা খুব কষ্টে ছিলাম। কয়েক দিন ধরে সাদাপাথরে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসছেন। তাই আমাদের আয়ও বেড়েছে। এভাবে পর্যটকর আসতে থাকলে আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে দুবেলা ভালমন্দ খেতে পারবো। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো।

সিলেটেরে অন্যান্য পর্যটন স্পট ‍গুলোরও একই অবস্থা। জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুলসহ সকল পর্যটন স্পট ‍গুলোতে বাড়তে শুরু করেছে পর্যটকদের সংখ্যা।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডি.আর