যথাযথ মর্যাদায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে শহিদ শেখ রাসেল দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহিদ শেখ রাসেলের ৫৯তম জন্মদিন আজ মঙ্গলবার। ১৯৬৪ সালের ১৮ নভেম্বর ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতক চক্রের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পাননি শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘাতকেরা নিষ্ঠুরভাবে তাঁকেও হত্যা করেছিল। শেখ রাসেল ছিলেন স্বাধীনতা পরবর্তী উদীয়মান প্রজন্মের প্রতিনিধি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুসারে, ২০২১ সাল থেকে শহিদ শেখ রাসেলের জন্মদিন ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘শেখ রাসেল নির্মলতার প্রতীক, দুরন্ত প্রাণবন্ত নির্ভীক’।


দিবসটি উপলক্ষে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেনের সভাপতিত্বে ও উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) সুমনা আজিজের পরিচালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন ব্যবসা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তাহের বিল্লাল খলিফা এবং আইন ও বিচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক গাজী সাইফুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তারেক ইসলাম।

পরে শেখ রাসেলের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাম ইসমাইল হোসেন। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর এম.ও. রহমান চৌধুরী ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনা সভায় যুক্ত হন।


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘নির্মম ঘাতকেরা ছোট্ট রাসেলকেও সেদিন রেহাই দেয়নি। ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকারদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। রাসেল আজ বিশ্বে অধিকারবঞ্চিত শিশুদের প্রতীক ও মানবিক সত্তা হিসেবে বেঁচে আছে সবার মাঝে।’

সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা তাঁকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তাদের সেই অপচেষ্টা শতভাগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। শহীদ শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভ বোধসম্পন্ন মানুষের কাছে ভালোবাসার নাম। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ থাকবে, ততদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাথে শেখ রাসেলও বেঁচে থাকবে বাঙালির হৃদয়ে।’

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে