সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বছরজুড়েই মেতে থাকে উৎসবে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় গিরিগোবর্ধন ও অন্নকুট উৎসব। যা ‘অন্নকুট’ উৎসব নামে পরিচিত। 

কার্ত্তিক মাসে কয়েক হাজার আইটেম উপাচার রান্না করে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয় যা অন্নকুট নামে সর্বাধিক পরিচিত।   বুধবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে মঙ্গল আরতির মধ্য দিয়ে শুরু হয় অন্নকুটের মুল আয়োজন। পরে গিরিগোবর্ধন পূজা ও অন্নকূট মহোৎসব উপলক্ষে মন্দিরে দশ সহস্রাধীক সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জড়ো হন।


অন্নকূট মহোৎসব উপলক্ষে ইসকন সিলেট মন্দির বিভিন্ন মাঙ্গলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। 

এর মধ্যে বুধবার ভোরে মঙ্গল আরতি, সকাল সাড়ে ৭টায় দর্শন আরতি, সকাল ৮টায় গুরুপূজা, সকাল সাড়ে ০৯টায় ভাগবত পাঠ, দুপুর সাড়ে ১২টায় গো-ব্রাহ্মণপূজা ও গিরিগোবর্ধন পূজা, বেলা ২টায় ভোগ আরতি ও ভোগ দর্শন। 

এ সময় ২৫০০ শত আইটেম রান্না করা উপচার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদন করা হয়।

বিকাল ৩ টায় গিরিগোবর্ধন পূজা ও  অন্নকূট লীলা বিষয়ক আলোচনা হয়।গিরিগোবর্ধন পূজা ও অন্নকুটের মহিমা আলোচনা করেন ইসকন বাংলাদেশের সহসভাপতি ও ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ।এরপর আগত অতিথি ও দশসহস্রাধীক ভক্তদের মধ্যে প্রসাদের বিতরণ করা হয়।

শাস্ত্রমতে, স্বর্গের রাজা ইন্দ্রের সৃষ্ট মহাপ্লাবন থেকে বৃন্দাবনবাসীকে রক্ষায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর কনিষ্ট আঙ্গুল দিয়ে গিরিগোবর্ধন উত্তোলন করে বৃন্দাবনবাসীদের আশ্রয় প্রদান করেছিলেন।ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাকে স্মরণ করে আজও ভক্তরা গিরিগোবর্ধন পূজা ও অন্নকুট মহোৎসব পালন করে থাকেন।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / সুব্রত / ডি.আর