চলমান স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। তাদের দাবি- বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না। তবে বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বতন্ত্রের মোড়কে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি নেতারা। এমনই অবস্থা সিলেটের ওসমানীনগরে।  

আসন্ন ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলামের ঘোড়ায় চড়ছে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাকে সমর্থন করে প্রকাশ্যে বিএনপির দায়িত্বশীলরাও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।


কামরুল ইসলাম ছাড়াও উপজেলা বিএনপির আরো ৪ প্রার্থী বিভিন্ন পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। যদিও দলীয়ভাবে বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন না করে গোপনে তাদের পাশেই রয়েছে উপজেলা বিএনপি। 

অভিযোগ উঠেছে, কৌশলে ভোটের মাঠে ঘোড়ায় দৌঁড় দিতে চায় বিএনপির দায়িত্বশীলরা। প্রার্থীদের নির্বাচনী উঠানবৈঠক বা সভায় তাদের বিএনপির পদ পদবী দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেয়া হলেও কোন ব্যাবস্থা গ্রহন হচ্ছে না। এই বিষেয় লিখিত ভাবে জেলা বিএনপিকে জানানো হয়েছে বলেই দায় এড়াচ্ছেন উপজেলা বিএনপি। যদিও নির্বাচনের আর ৪ দিন বাকি এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন না করায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও নির্বাচনে ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে এই বিষয়ে ক্ষোব্ধ উপজেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। 

তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, দল অংশ না নিলেও বিএনপি নেতারা অংশ নিলে দলকে কোলশিত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বোধগম্য নয়। দলের হাই কমান্ডে আতাত করেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা। ফলে কৌশলে ভোটের মাঠে ঘোড়ায় চড়ছে বিএনপি।

আগামী ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে ৩জন চেয়ারম্যান প্রার্থী,৮ জন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। ৩ পদে ৫জন প্রার্থীই বিএনপির পদধারী। তারা হলেন, চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কারুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গয়াছ মিয়া (চশমা), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল মিয়া (টিউবওয়েল), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির মহিলা সম্পাদিকা মুসলিমা আক্তার চৌধুরী (সেলাই মিশিন) ও বিএনপি নেত্রী জাহানারা বেগম (কলস)। বর্তমানে কৌশলে দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল বিএনপি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরাও মাঠে রয়েছেন।

 তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, সাংগঠনিক কোন ব্যবস্থা গ্রহন না কারায় দলীয় পদ ব্যবহার করায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। তারা প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবেন না দলের পক্ষে এনিয়ে তৃণমূল বিএনপিতে হ-যবরল অবস্থা বিরাজ করছে।

সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল ইসলাম গত ১৭ অক্টোবর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগের পত্র জমা দিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির কাছে। উপজেলা বিএনপির কাছেও অনুলিপি দেন। কিন্তু জেলা এবং উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলরা পদত্যোগের বিষয়টি এখনো গোপন রেখেছেন। ফলে এখনো নির্বাচনী সভায় তাকে দলীয় পদ দিয়ে পরিচয় দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও দায়িত্বশীলরা এই পদত্যাগের বিষয় গোপন রাখায় এবং দলীয় পদ ব্যবহার করায় নানা জলল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হয়েছ।

এদিকে, সম্প্রতি বুরুঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির আয়োজনে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করে বক্তব্য রাখলে তৃণমূল বিএনপিতে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। পরবর্তীতে গত ২১ অক্টোবর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ স্বাক্ষরিত একটি পত্র কয়দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুড়ছে। ওই পত্রে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় প্রত্যেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের কিংবা দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের বিতর্কিত নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণা জন্য কোন সভা সমাবেশ আহবান করে সংগঠনকে বিতর্কিত না করার আহবান জানান। এই পত্র ফেসবুকে আপলোড দিয়ে দায় সাড়ে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির দায়ত্বশীলরা।

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী কারুল ইসলাম বলেন, আমার নির্বাচনী সভায় দলীয় পদ ব্যবহার করা হচ্ছে না কারণ আমি দল থেকে পদত্যাগ করেছি। দলের দায়িত্বলীলদের কাছে আমি পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছি। তারা কেন প্রকাশ করলো না তা আমার জানা নেই। 
 ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ বলেন, দলীয় পদ পদবী ব্যবহারের বিষয়ে এবং দলের একাধিক নেতা দলের নির্দেশ উপক্ষো করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় এছাড়া তাদের সাথে যে সকল বিএনপি নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তালিকা করে জেলা বিএনপির কাছে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। জেলা বিএনপি এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। উপজেলা বিএনপি কোন প্রার্থীকে সমর্থন করছে না বলে জানান তিনি। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / রনিক / ডি.আর